ঢাকা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কার্যালয়ে ঢুকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির নিজস্ব কার্যালয়ে থাকাকালীন তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি।

অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি অভিযোগ করেন, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় প্রায় ৮ থেকে ৯ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করেন এবং তাকে চেয়ার থেকে টেনে তুলে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। ঘটনার সময় উপস্থিত একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হামলাকারীদের আইইডিসিআরের নিয়মিত কর্মী হিসেবে আগে কখনো দেখা যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও এর পেছনে পরিচালকের সংশ্লিষ্টতা থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মুঠোফোনে একটি ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, কাজী আহমেদ বর্তমান সময়ে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন এবং করোনা মহামারিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

এই অনভিপ্রেত ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্যবিদ মুশতাক হোসেন। তিনি অবিলম্বে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করে থাকে।

বিএনপি সরকারের আমলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কাজী আহমেদকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। হামলার শিকার হওয়ার পর অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি জানান, তিনি এই ঘটনার বিরুদ্ধে দাপ্তরিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।