ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উভয় নেতা তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

টোকিও সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই নেতার শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়। জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। গত পাঁচ দশকে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে আরও মজবুত হয়েছে। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে পাশে থেকেছে। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও জানান, আজকের আলোচনায় তারা শক্তি (এনার্জি), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), বাণিজ্য এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি জাপানি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপের অংশীদার হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুসংহত করতে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। যৌথ বিবৃতিতে তাদের আলোচনার মূল অগ্রাধিকার ও প্রাপ্ত ফলাফলগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বন্ধুত্বের এই সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তর করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় সহযোগিতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। দুই দেশের বর্তমান অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চস্তরে উন্নীত করার মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই উত্তরাধিকার গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রধানমন্ত্রী।