ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট):  বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অটুট বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক দাঁড়িয়ে আছে, যা ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পরবর্তী উন্নায়ন অগ্রগতিতে জাপানকে পাশে চায় বাংলাদেশ।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তার দেশের গভীর সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বে অব বেঙ্গল কেন্দ্রিক কৌশলগত অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে টোকিও অত্যন্ত আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন। শীর্ষ বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। গার্ড অব অনার পরিদর্শন শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একে অপরের মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং পরে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। পরিচয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভবনের মূল কক্ষে প্রবেশ পথে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মধ্যাহ্নভোজের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, টোকিওতে চার দিনের সফরে আসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন।

মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড বা কাফকো-র আধুনিকায়ন ও দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন। জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের গতি ত্বরান্বিত করা, দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। এছাড়া কৃষি আধুনিকায়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে প্রাধান্য পেয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর।

এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন।

টোকিও সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।

প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। এছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।