পুলিশ বাহিনী নিয়ে নানামুখী সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, পুলিশ কঠোর হলে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়, আবার নীরব থাকলে বলা হয় ‘দুর্বল’। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পুলিশ পিছিয়ে থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারের শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আইজিপি বলেন, ইসলামে ঘুষ ও সুদ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অংশীদারিত্ব ও ব্যবসায়িক নৈতিকতা থাকা জরুরি। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’।
গত ১৭ বছরের অনিয়ম ও ব্যাংক দখলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারি ও মনিটরিং ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে কেবল আইন করে অপরাধ দমন সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান ব্যবস্থাপনার ওপর গ্রাহকদের আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মনিটরিং বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আইজিপি জানান, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অতীতে কিছু পুলিশ সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও বর্তমান প্রশাসন তাদের ছাড় দিচ্ছে না। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলহাজতে পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ নিজেদের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে। আইজিপি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে অকার্যকর করেছে, তাদের আমলেই পাড়ায়-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশেরও কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন।
সম্প্রতি ১০১ জন নাগরিকের করা বিবৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংবিধান ও আইন মেনে চলতে সবারই বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তা করার অধিকার নয়। পুলিশ সদস্যদের যোগ্যতার বিষয়ে তোলা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশে শিক্ষিত কর্মীর কোনো বিকল্প নেই। অথচ কনস্টেবলের সাথে ঝামেলা হলেই সমালোচনার ঝড় ওঠে, যা কাম্য নয়। সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে দেওয়া নাগরিক সমাজের এক বিবৃতির প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা।
আইজিপি আরও যোগ করেন, বিভিন্ন সামাজিক অস্থিরতা ও শ্রমিক-ছাত্র আন্দোলনের সব দায় পুলিশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। সংবিধানে পুলিশের কাজের জন্য নির্দিষ্ট চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই পরবর্তী সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, শরীয়াহভিত্তিক আধুনিক ব্যাংকিং সেবার প্রসারে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই যাত্রা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সবশেষে আইজিপি গুজবে কান না দিয়ে আইন অনুযায়ী পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সবার সহায়তা কামনা করেন এবং অহেতুক পুলিশকে অকার্যকর করার ষড়যন্ত্র থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।