ঢাকা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বিচার বিভাগকে ক্ষমতার বাইরে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত সংবিধান সংশোধন কমিটির এক বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এই বৈঠকে দেশের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বসে, এদিন দেশের প্রতিথযশা আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন বৈঠকে।

কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্বাচন ছাড়াও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান কমিটি ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সংবিধান সংশোধন কমিটির লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতীতে একদলীয় ক্ষমতার স্থায়িত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করা হলেও বর্তমান কমিটির মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সংস্কার।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে সংবিধানে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই। এছাড়া গণভোটের বিষয়ে জনগণের রায়কে সম্মান প্রদর্শন করলেও সেই প্রক্রিয়ার প্রশ্নগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদি ভবিষ্যতে আবার গণভোটের আয়োজন করা হয়, তবে তা মূলত সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্যেই হবে। তবে তাতে রাখা প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক আছে। গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে আমরা সম্মান করি।

তিনি বিরোধী দলের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি যদি তাদের নোট অব ডিসেন্ট বা অমত শিথিল করতে চায়, তবে তা আলোচনার টেবিলে এসে জানাতে হবে। সরকার চায় বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করুক। সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কমিটি ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।