কেমব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁ থেকে কীভাবে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল, তা এক স্মৃতিচারণে তুলে ধরেছেন কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধী। ভালোবাসা ও স্মৃতিতে ভরা সেই জীবনের কথা নিজের আসন্ন বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের প্রথম বার্তা বা পোস্ট শেয়ার করে তিনি নতুন এই স্মৃতিকথা প্রকাশের ঘোষণা দেন।
১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে তাঁদের প্রথম দেখার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে রাজীব গান্ধীর বিশেষ গুণাবলির কথা স্মরণ করেন সোনিয়া। তিনি জানান, সেই সময়ে ভালো খাবার পরিবেশনকারী রেস্তোরাঁর সংখ্যা খুব কম ছিল। বেশ খোঁজাখুঁজির পর তিনি এমন একটি গ্রিক রেস্তোরাঁর সন্ধান পান, যেখানে ভারতীয় ও ইতালীয় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতেন।
সেই রেস্তোরাঁতেই এক সাধারণ বন্ধুর হাত ধরে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সোনিয়ার পরিচয় হয়। প্রথম দেখার স্মৃতি প্রকাশ করতে গিয়ে সোনিয়া লিখেছেন, রাজীবকে দেখার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনে হয়েছিল এই মানুষটির সঙ্গেই তিনি জীবন কাটাতে চান। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে রাজীব গান্ধীর ভেতরেও ঠিক একই ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। যখন তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়, তখন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হয়েছিল, তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর সঙ্গে আমি সত্যিই থাকতে চাইব। পরে জানতে পারি, তিনিও একই রকম অনুভব করেছিলেন। আমার মনে আছে, যখন প্রথম দেখা হয়, একজন সাধারণ বন্ধু আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এবং তারপর আমরা বন্ধু হয়ে যাই।
পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা দুজনে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করেন। সোনিয়ার মতে, রাজীব গান্ধী দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন ছিলেন, তবে তাঁর শান্ত স্বভাব ও নম্রতা তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। রাজীবের এই ব্যক্তিত্বই সোনিয়ার মনে সবথেকে বড় ছাপ ফেলেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্মৃতিকথামূলক বইটি আগামী ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালফ্রেড এ নফ বইটি প্রকাশ করছে এবং ভারতের বাজারে এটি তুলে ধরছে হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া। প্রকাশিত হওয়ার আগেই পাঠকদের জন্য বইটির অগ্রিম নির্দেশ বা প্রি-অর্ডার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। আগামী ১০ নভেম্বর, আমি সেই পৃথিবীটা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।’।
মোট ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই বিস্তৃত বইটিতে সোনিয়া গান্ধীর জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় স্থান পেয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে তাঁর শৈশব گذرানো থেকে শুরু করে কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার ঘটনা এতে বর্ণিত হয়েছে। ৫৪৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইতালিতে সোনিয়া গান্ধীর শৈশব থেকে শুরু করে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়া এবং পরিণতিতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত ও ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথাও বইটিতে অকপটে লিখেছেন সোনিয়া। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পরবর্তীতে রাজীব গান্ধীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের মতো যেসব মর্মান্তিক ঘটনা তাঁর জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল, সেগুলোর চিত্রায়ন রয়েছে এতে।
এর পাশাপাশি ভারতের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের পরবর্তী আগমন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়েও সোনিয়া গান্ধী বইটিতে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে এক্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।