গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুলমিয়া এবং কনস্টেবল শওকত ও জসিম আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা পুলিশের গাড়িটিও ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ‘জয় বাংলা’ ও ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দিয়ে হকিস্টিক ও দেশীয় অস্ত্রসহ একদল যুবক মিছিল নিয়ে এগিয়ে আসছিলেন। এ সময় পুলিশের একটি গাড়ি মোড়ের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল এবং ভেতরে চালকসহ তিন পুলিশ সদস্য পাশে অবস্থান করছিলেন। ভিডিওচিত্র অনুযায়ী, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মিছিলকারীদের কোনো বাধা না দিলেও মিছিল থেকে হঠাৎ গাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলা শুরুর পর গাড়িটি সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা ধাওয়া করে ভাঙচুর অব্যাহত রাখে এবং পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তাঁদের একজনকে মুঠোফোনে কথা বলতে এবং হাত নেড়ে মিছিল নিয়ে যুবকদের সামনের দিকে চলে যেতে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে মিছিলে থাকা যুবকেরা গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকেন।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকায় গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁদের কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ছিল না, বরং শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অতর্কিতভাবে এই হামলার শিকার হতে হয়েছে।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ জানিয়েছেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।