যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে আসন্ন নির্বাচনের বিষয়টি পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। আগামী ২৭শে অক্টোবর ইসরাইলের সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের পূর্বে ইরানে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কথা প্রকাশ করলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তেহরানে তীব্র যৌথ হামলা চালানোর একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। স্বল্পমেয়াদি কিন্তু জোরদার এই অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার। মূলত বড় ধরনের আঘাতের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়ে দীর্ঘ আট মাসের সংঘাত শেষে তাদের কূটনৈতিক সমঝোতায় বাধ্য করতেই এই ছক কষা হচ্ছে।
সামরিক এই কৌশলের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী তাদের মহড়া বাড়িয়েছে এবং ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে আক্রমণের মহড়াও চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করে সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযাত্রার দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এই হামলা বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের সংশয় রয়েছে। তাছাড়া ডনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ চলতি বছরেই তিনি সামরিক সংঘাতের একাধিক প্রস্তাব আটকে দেন। এমনকি চলতি মাসের শুরুতে আক্রমণ প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে অভিযান স্থগিত করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার হামলা হলে প্রতিক্রিয়া কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ বা জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি সতর্ক করে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করার যে চিন্তা ওয়াশিংটন করছে তা একটি কল্পনাপ্রসূত ভাবনা ছাড়া কিছুই নয়। এবারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হবে আরও সুনির্দিষ্ট, কৌশলগত ও তীব্র। এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে অবস্থিত মাটির গভীরের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হলে ইরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবের বড় তেল শোধনাগারগুলোতে আক্রমণ চালিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মার্কিন নাগরিকদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
সামরিক শক্তি জোরদারে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী নভেম্বরের শুরুর দিকে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, প্রচুর সংখ্যক যুদ্ধবিমান ও হাজার হাজার মেরিন সেনা নিয়ে সেখানে মার্কিন বলয় পূর্ণতা পাবে। তেলের মূল্যে অস্থিরতা এবং নির্বাচনী ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প ভোটাভুটির আগে কোনো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না বলেই আভাস মিলছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে সামরিক বা কূটনৈতিকসহ সব ধরনের বিকল্প পথই তাদের টেবিলে খোলা রয়েছে।