ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট):  সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এ ধরনের ঘটনায় পূর্বাপর তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার তা হয়নি। কেন এবং প্রক্রিয়ার কোন স্তরে ত্রুটি ছিল, তা নিরূপণ করতে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে আটক বা বিচার প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে বিষয়টি অবহিত করার রীতি রয়েছে। এতে কনস্যুলার সেবা প্রদান এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা সম্ভব হয়। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ একই প্রত্যাশা করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধের বিচার সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী হতেই পারে, কিন্তু এ ঘটনায় যে প্রক্রিয়াগত ঘাটতি ও তথ্যের বিচ্যুতি ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় কিংবা তারা স্বামী-স্ত্রী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সংবাদপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জেনেছি তারা বাংলাদেশি। তবে বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। মৃত্যুদণ্ডের পর ক্ষতিপূরণ বা ব্লাড মানি পাওয়ার সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই বলেও জানান তিনি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক ঐতিহাসিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কের আলোকেই আমরা বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাইছি।

এর আগে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয় এবং পূর্বে পাঠানো কূটনৈতিক পত্রের অনুলিপি হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে দুই দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে বিদ্যমান গভীর ও চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশাও পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।