টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছক্কার গুরুত্ব অপরিসীম। এই সংস্করণে ছক্কা হাঁকানোর সক্ষমতা প্রায়শই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ছক্কার কথা উঠলে বিশ্বজুড়ে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের নামই চলে আসে। তাদের পাওয়ার হিটিংয়ের পরিসংখ্যানও সেই দাবির সপক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ দেয়। ২০২৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মোট ২০২৬টি ছক্কা হাঁকিয়েছে। ২৬০টি ম্যাচ খেলে ক্যারিবীয়রা এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তবে সফল হয়ে গেলে সাধারণত প্রশংসাই মেলে। তবে ওভার বাউন্ডারি নামে পরিচিত ছক্কার কদরটা টি–টুয়েন্টিতে একটু বেশিই। টি–টুয়েন্টিতে ছক্কার প্রসঙ্গ এলে সবার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটার কথাই মাথায় আসায় কথা বেশির ভাগের। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। আর না থাকার অর্থ হচ্ছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৬ সাল শেষ করতে যাচ্ছে টি–টুয়েন্টিতে ২০২৬ ছক্কা নিয়ে। দুই দলের ব্যবধান মাত্র ৯ ছক্কার। পরিসংখ্যানও কিন্তু একই সাক্ষ্য দিচ্ছে।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের মোট ছক্কার সংখ্যা ২০১৭টি।

তবে এই অবস্থানে পৌঁছাতে ভারতকে ২৯৮টি ম্যাচ খেলতে হয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ভারত ৩৮টি ম্যাচ বেশি খেলেও ছক্কার সংখ্যায় তাদের চেয়ে পিছিয়ে ৯টি ছক্কায়। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১৫৮৫টি ছক্কা। এছাড়া পাকিস্তান ১৫০৭টি ছক্কা নিয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ছক্কার সংখ্যাও ১৪০০-এর কোঠায়, যা প্রমাণ করে ২০০০ ছক্কার ক্লাবে এখন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। আর তা এতো বেশি যে, তাদের খেলা দেখতে নড়েচড়ে বসেন সবাই। নতুন কোনো সূচি যোগ না হলে এ বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ বছর আর কোনো টি–টুয়েন্টি নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ২৬০। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল করে লেগেছে। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।

ছক্কা মারার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিত্রটি বেশ হতাশাজনক। ২২২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশের মোট ছক্কার সংখ্যা ৯৮৬টি। শীর্ষ দশ দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই হাজারের নিচে ছক্কা মেরেছে। এমনকি বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে (১৬৮টি) আফগানিস্তান ১০১৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে এগিয়ে আছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পথচলা শুরু করলেও ছক্কার হারে পিছিয়ে রয়েছে অনেকটা। এমনকি দেখেশুনে খেলার টেস্ট ক্রিকেটেও। অথচ আফগানিস্তান প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি খেলেছে ২০১০ সালে, বাংলাদেশের চার বছর পর। ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল, বলছেন তাসকিন।

প্রতি ১৩.৯৩ বল অন্তর একটি করে ছক্কা মেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখানেও শীর্ষে। ভারতের ক্ষেত্রে এই গড় ১৬.১৬ বল। তুলনায় বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল মোকাবিলা করে, যা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কার (২৬.১২ বল) পরেই সবচেয়ে খারাপ। ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে দায় আপনার। সবাই অবশ্য চাহিদা অনুসারে মারতে পারে না। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ১৬.১৬ বলে।

সেঞ্চুরির বিচারে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ বেশ পিছিয়ে। ভারতের ব্যাটসম্যানরা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ২৭টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের সেঞ্চুরি ১৪টি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান—তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন—সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদেরও ৩টি করে সেঞ্চুরি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিকারী শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নেই। ক্যারিবীয়ান দ্বীপ থেকে উঠে আসা একেকজন ব্যাটসম্যান কী সহজেই না বাউন্ডারি পার করিয়ে ফেলতে পারেন।

ব্যাটিংয়ের অন্যান্য সূচকেও বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। ভারতের ব্যাটসম্যানদের ফিফটির সংখ্যা ২৫৫টি, যেখানে পাকিস্তান ২০২টি ফিফটি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা ১৫৮টি ফিফটি ও ৯টি সেঞ্চুরি করেছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ স্ট্রাইক রেট (১১৭.২৫) ও ব্যাটিং গড় (১৯.৩৪) কোনোটিতেই শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিতে পারেনি। এই দুই ক্যাটাগরিতেই ভারত তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছে।