সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার ‘শারদীয় দুর্গোৎসব’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশ ও প্রবাসে বসবাসকারী সব হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা, সংস্কার ও উন্নয়নে সরকার নিয়মিত সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে পুরোহিতদের মাসিক সম্মানী প্রদান এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হচ্ছে।

বাণীতে বলা হয়, দুর্গাপূজা বাংলাভাষী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। শরতের স্নিগ্ধ আকাশ ও উৎসবমুখর আবহে প্রতিবছর দেবী দুর্গার আগমন ভক্তদের হৃদয়ে নতুন আশা জাগায়। দুর্গোৎসবের মূল শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সত্য ও কল্যাণের জয় প্রতিষ্ঠা করা। এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ঐতিহ্যগতভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পূজা উদ্‌যাপন করে আসছে, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নিদর্শন।

দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্য। এই উৎসবের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষ সৌহার্দ্যের বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ বিকশিত হয়। প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, শারদীয় দুর্গোৎসব সবার মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

দেশের প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় যেন নিজ নিজ আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায় এবং মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। ধর্ম বা বর্ণ পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার মুখে না পড়েন, তার নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সব ভেদাভেদ ভুলে দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট সবার জীবনে শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি দেশে ও বিদেশে দুর্গোৎসব উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।