কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর রাতে সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হন এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারে গেলে পুলিশের দুই সদস্য কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ও এএসআই ইমরান হোসেনকে।

শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দুই স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মধ্যকার মর্যাদা এবং সুরক্ষা বজায় রাখতে সীমান্তরক্ষীসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তবে ভারতীয় বাহিনীর এমন আগ্রাসী আচরণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতিমালার পরিপন্থী ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সীমান্তের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় দেশের বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু ভারতীয় পক্ষের আগ্রাসী মনোভাব তা ক্ষুণ্ণ করছে, যা মোটেই কাম্য নয়।

বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশি দুই পুলিশ সদস্যকে অতি দ্রুত সসম্মানে ফেরত দেয়ার জোর দাবি জানান জামায়াত নেতা। তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থানের কারণেই প্রতিবেশী দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করছে না। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।