টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা লিটন দাস। আবুধাবি টেস্টের ম্যাচে ব্যাটে-বলে নিজের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি গড়েছেন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড। টেস্টের ইতিহাসে প্রথম উইকেটকিপার হিসেবে কোনো একক ম্যাচে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান এবং উইকেটের পেছনে নয়টি ডিসমিসাল নেওয়ার নজির স্থাপন করলেন তিনি। এর আগে কোনো উইকেটকিপার এই বিরল সমন্বয়ের স্বাদ পাননি। ইকরাম আলীখিলকে ফিরিয়ে লিটন দাস শুধু একটি উইকেটের পতনই নিশ্চিত করেননি, গড়েছেন বিশ্বরেকর্ডও। আবুধাবি টেস্টের পঞ্চম দিনে এই ক্যাচেই পূর্ণ হয় তার নবম ডিসমিসাল। আর তিনটি ডিসমিসাল করতে পারলেই এককভাবে রেকর্ডের মালিক হবেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
লিটন দাসের এই রেকর্ড গড়ার ম্যাচে বল হাতে ইবাদত হোসেনের গতিময় বাউন্সারে উইকেটের পেছনে বল তালুবন্দী করার দৃশ্য ছিল দেখার মতো। এই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লিটন ব্যাট হাতে সংগ্রহ করেন ৫৩ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১০২ রানের এক ঝলমলে ইনিংস। দুই ইনিংসেই অর্ধশতক হাঁকানোর পাশাপাশি কিপিং গ্লাভস হাতে তিনি ডিসমিসাল সম্পন্ন করেন নয়টি।
ক্রিকেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টেস্ট ইতিহাসে এক ম্যাচে নয়টি ডিসমিসালের ঘটনা লিটন দাসের কীর্তিসহ এখন পর্যন্ত মোট ৩১ বার দেখা গেছে। এর মধ্যে দশটি ডিসমিসালের ঘটনা ঘটেছে মাত্র পাঁচবার। উইকেটকিপিংয়ে ১১টি ডিসমিসালের রেকর্ড রয়েছে ইংল্যান্ডের জ্যাক রাসেল, দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ভারতের ঋষভ পন্তের ঝুলিতে। তবে লিটনের এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাকে এক বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এর আগে ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলট সাতটি ডিসমিসাল সম্পন্ন করেছিলেন, যা এতদিন পর্যন্ত ছিল উল্লেখযোগ্য এক অর্জন। লিটন দাসের এই কীর্তি ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও আটটি ডিসমিসালের যে রেকর্ড ছিল, লিটন এবার তাকেও ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। ১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও ৮টি ডিসমিসাল ছিল তার কীর্তি। এবার তার সামনে হাতছানি দিচ্ছে আরও বড় মাইলফলক। টেস্টে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ডিসমালের একক মালিকানা পেতে লিটনের দরকার আরও তিনটি ডিসমিসাল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে লিটনের দুর্দান্ত ক্যাচ।