যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিক্ষোভ ও কঠোর প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১২ অক্টোবর) জেএফকে বিমানবন্দরের আট নম্বর টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড. ইউনূস যখন বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন একদল প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরেন এবং উচ্চস্বরে নানা ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাঁকে তোপের মুখে পড়তে দেখা যায়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরে তাঁর চলাচলের সময় কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে উচ্চস্বরে নানা অভিযোগ তোলেন। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ ও ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও মন্তব্য করেন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে বসা ড. ইউনূস বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। তাঁদের কাউকে ‘ইউ আর টেররিস্ট’ (আপনি সন্ত্রাসী), ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’ (আপনি বাংলাদেশিদের হত্যা করেছেন), ‘গো ব্যাক’ (ফিরে যান) এবং ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ (আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছেন) বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে একের পর এক মন্তব্য করতে দেখা গেলেও তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
বিক্ষোভের সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে ঘিরে ধরে বাংলাদেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও দেশটিতে চলমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অভিযোগ ও স্লোগান তোলেন। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ওই সময় ড. ইউনূসের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সাবেক এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা বা তাঁদের পরিচয় নিয়ে কোনো নিরপেক্ষ বা স্বাধীন উৎস থেকে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের প্রকৃত দাবি ও ঘটনার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ড. ইউনূসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়ও জেএফকে বিমানবন্দরে অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভের পাশাপাশি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের দিকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ একজনকে আটক করেছিল বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সোমবারের এই বিক্ষোভের সঙ্গে গত বছরের ওই ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং বিক্ষোভের কারণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।