একটা সময় ছিল যখন সিনেমার পারিশ্রমিক দিয়ে নিজের জীবন চালানোই ছিল দুষ্কর। অথচ সেই পারিশ্রমিক এখন নাজিফা তুষির জীবন ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন। ‘হাওয়া’, ‘প্রেশার কুকার’ কিংবা ‘রইদ’-এর মতো সিনেমায় কাজের সুযোগ আসবে, তা একসময় ভাবনারও বাইরে ছিল। অথচ এই কাজগুলোই তাকে বদলে দিয়েছে এবং অন্যদের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছে। তুষি জানান, ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকে বলেছিল ‘হাওয়া’ সিনেমার পর তিনি হারিয়ে গেছেন, তার হাতে কাজ নেই। তবে ধৈর্য ধরে নীরবে কাজ করে গেছেন তিনি। সেই কাজের ফসল যে এক বছরেই একসঙ্গে মুক্তি পাবে, তা ছিল অভাবনীয়। তিনি জানান, ‘অনেক কিছু করে ফেলব, বিষয়টা তেমন নয়।
চলতি বছর রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার অভিনীত সিনেমা ‘রইদ’ মনোনীত হওয়ার সুখবর দিয়ে শুরু হয়। এরপর দুই ঈদে মুক্তি পায় ‘প্রেশার কুকার’ ও ‘রইদ’। এর পাশাপাশি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘অ্যানি’ এবং রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’-এর প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের কাজের বর্তমান গতিধারা নিয়ে তুষি বলেন, কাজের চাপে মনে হচ্ছে বছরটা যেন বেশিই ব্যস্ততায় কেটেছে, তবে তিনি চান এই রঙিন সময় যেন ফুরিয়ে না যায়। নিজেকে আরও বিভিন্ন রূপে অন্বেষণ করাই এখন তার লক্ষ্য। জানিও না এর পরে ক্যারিয়ারে কখন কী হয়।
পরিকল্পনা করে নয়, বরং সহজাত ছন্দেই মিডিয়া অঙ্গনে পথ চলছেন নাজিফা তুষি। তিনি স্বীকার করেন, দেশে বেশির ভাগ সিনেমার গল্পই পুরুষকেন্দ্রিক, যা মাঝে মাঝে তাকে ভাবায়। নারীকেন্দ্রিক চরিত্র আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী শিল্পীদের নিজেদের যোগ্যতা দিয়েই এই পরিবর্তন আনতে হবে। এখন পর্যন্ত নিজের যাত্রা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং সুসময়ের মধ্যেই পছন্দের সব চরিত্রে অভিনয় করতে চান। এছাড়া নিজের অভিনয় দক্ষতাকে ভাঙতে প্রথমবারের মতো মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তুষি, যেখানে নাচ-গান ও মারপিটের দৃশ্যও থাকবে। আগামী বছর ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। থ্রিলার বা হরর জনরার বাইরে নিজেকে নতুন আঙ্গিকে দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পথচলা এখনো বাকি কোনো পরিকল্পনা না করেই মিডিয়া অঙ্গনে তাঁর এ পথচলা। গত তিন বছরে একটু একটু করে নিজেকে বদলেছেন, তৈরি করেছেন তুষি। ‘সফলতা তো পেলেন, এখন সবচেয়ে বেশি ভাবায় কী। সময়ের সঙ্গে হয়তো এটাও একসময় অনেকটাই পরিবর্তন হবে। এবার নতুন তুষি ‘তুষি কি নাচতে পারেন না, তুষি কেন মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা করেন না, একই রকম প্যাটার্নে আর কত।
সিনেমা মুক্তির সময়সূচি নিয়ে তুষি বেশ সচেতন। ‘আন্ধার’ সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে আগামী বছর ২৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ‘প্রেশার কুকার’ মুক্তি পেয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। হল থেকে ওটিটিতে দর্শক সাড়ায় তিনি বেশ খুশি। প্রযোজকের সিদ্ধান্তে সিনেমার মুক্তি পিছিয়ে দেওয়াকে তিনি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখেন। তার মতে, তাড়াহুড়ো করে মুক্তির চেয়ে সিনেমার পোস্ট-প্রোডাকশন, মার্কেটিং এবং প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া জরুরি। ভালো লগ্নির সুরক্ষা নিশ্চিত হলেই কেবল সিনেমার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
ক্যাম্পাস প্রচারণার এক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তুষি জানান, সম্প্রতি এক আয়োজনে এক শিক্ষার্থী তাকে প্রশ্ন করার বদলে সরাসরি বলে ফেলেন, ‘আই লাভ ইউ, তুষি আপু। আমি আপনার মতো অভিনয়শিল্পী হতে চাই।’ ভক্তদের এমন অনুপ্রেরণামূলক কথা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তিনি ফিরে তাকান ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে, যখন তার সমসাময়িকরা নাটক করে থিতু হলেও তিনি অনিশ্চিত সিনেমার পথে ছুটেছিলেন। আজ সেই সিদ্ধান্ত সঠিক মনে হয়। তবে পুরস্কারের চেয়ে নিজের চরিত্রের মধ্যে বেঁচে থাকাই তার কাছে বড় অর্জন। সবশেষে তুষি বলেন, ‘আমাকে আরও ভালো করতে হবে এবং চরিত্রের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। যারা শুরু থেকে আমার পাশে থেকেছেন, সেই পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন নতুন সিনেমার। ‘কাজগুলো বলে দেয়, এ বছরটি আপনার।