সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবার আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরটির টার্মিনাল-৪ লক্ষ্য করে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। শনিবারের ভয়াবহ হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই আক্রমণের ফলে গত এক সপ্তাহে রিয়াদের এই বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। বিমানবন্দরটিতে থাকা একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রানওয়ের কাছাকাছি প্রজেক্টাইলটি আঘাত করায় আগুন ধরে যায়, যার ফলে যাত্রীদের দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।

ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার পরপরই তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে একটি ড্রোন এবং দক্ষিণ সীমান্ত সংলগ্ন খামিস মুশাইতে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে দাবি করেছেন, রিয়াদের পাশাপাশি তারা দাম্মামের বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর দুটি তেল স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ রাতে দাম্মাম বিমানবন্দরে আঘাতের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কাজ চলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি জোট গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ১২৪ দফা বিমান হামলা চালিয়েছে এবং আক্রমণ বন্ধ না হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এছাড়া হুতিরা বেসামরিক উড়োজাহাজগুলোকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃটেন তাদের নাগরিকদের মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্য কোনো বিমানবন্দরে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করতে পরামর্শ দিয়েছে। মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও সৌদি আকাশসীমায় চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে। এছাড়া রিয়াদের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদান বন্ধ রেখে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।