মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক বিতর্ক ও আইনি লড়াইয়ের উত্তাপ পেছনে ফেলে অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা দুই দলই সমানে সমান লড়াই করলেও ৬২ মিনিটে অলরেডদের ডাচ মিডফিল্ডার রায়ান গ্রাভেনবারখ লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে খেলার গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়। শেষ আধা ঘণ্টায় ১০ জনের স্বাগতিক দলকে একচ্ছত্র প্রভাবে কোণঠাসা করে ফেলে সিটিজেনরা। শেষ ৩০ মিনিটে ১০ জনের লিভারপুলকে একপ্রকার চেপে ধরে ৩-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো সিটিজেনরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলে কিছুটা এগিয়ে ছিল স্বাগতিক লিভারপুল। তবে আর্লিং হালান্দ, ইলিয়ট অ্যান্ডারসন ও জেরেমি ডোকুদের দক্ষতায় সফরকারী সিটিও ম্যাচের লাগাম হাতছাড়া হতে দেয়নি। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটে ডোকুকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে লাল কার্ড পান অলরেডদের হয়ে দুর্দান্ত খেলতে থাকা গ্রাভেনবারখ। তার প্রস্থানে লিভারপুল ১০ জনের দলে পরিণত হতেই একের পর এক ধারালো আক্রমণ শুরু করে সিটি।

গ্রাভেনবারখের বিদায়ের মাত্র তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৬৫ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় সফরকারীরা। বদলি হিসেবে নামা ডোকুর বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে দারুণ ফার্স্ট-টাইম ফিনিশিংয়ে সিটিকে এগিয়ে নেন আর্লিং হালান্দ। লিড নেওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় সিটি। তিন মিনিটের ব্যবধানে বাঁ দিক থেকে ড্রিবলিং করে বক্সে ঢুকে চমৎকার এক শটে স্কোরলাইন ২-০ করেন ডোকু নিজে।

ম্যাচের ৭৮ মিনিটে চলতি মৌসুমের অন্যতম সেরা এক দর্শনীয় গোলের সাক্ষী হয় অ্যানফিল্ড। প্রায় দুই মিনিট টানা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে এনজো ম্যারেস্কার দল নিখুঁত এক আক্রমণ সাজায়। রায়ান চেরকি ও ইয়োস্কো ভার্দিওলের চমৎকার পাসিংয়ের পর অ্যান্ডারসনের সহযোগিতায় স্বাগতিক রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করেন চেরকি। শেষ বাঁশি বাজলে ঘরের মাঠের সমর্থকদের কাছ থেকে ‘চিটস’ ও ‘গোয়িং ডাউন’ স্লোগান শুনলেও মাঠের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শিষ্যদের নিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতেন সিটি ম্যানেজার মারেস্কা।