ঢাকা, ১১ অক্টোবর ২০২৬ইং ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’র সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চার জনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মো. রেজাউল রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার ঘটনায় শনিবার শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক মামলাটি করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনে দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে আয়াসসহ চার জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। এ সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে বাধা দেন। ওই নারী বলেন, তারা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তারা স্লোগানও দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবার এসব প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিকৃতি আঁকার সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করেন