আবুধাবিতে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশ দলের পেসার হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম ইনিংসে টানা তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিয়ে গড়েছেন হ্যাটট্রিকের মাইলফলক। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক হলেও, কোনো বাংলাদেশি পেসারের জন্য এটিই প্রথম। এর আগে ২০০৩ সালে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে সোহাগ গাজী টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন, তবে তাঁরা দুজনেই ছিলেন স্পিনার। টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ বছরের ইতিহাসে হাসানের এই কীর্তিটি ৫০তম হ্যাটট্রিক এবং ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে এটিই প্রথম। এর আগের অর্থাৎ ৪৯তম হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন স্কট বোল্যান্ড, যা ছিল ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। বাংলাদেশের এগারো ফিল্ডারই এলবিডব্লু চেয়ে জোরেশোরে আওয়াজ তুলেছিলেন। প্রথমটি ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালির। দ্বিতীয়টি দশ বছর পর চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজীর। একজন ছিলেন লেগ স্পিনার, অন্যজন অফ স্পিনার। অবশেষে আজ সেই অপেক্ষার অবসান হাসানের হাতে।
ম্যাচের ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে শুরু হয় হাসানের এই ঘূর্ণি জাদু। তাঁর ব্যাক অব আ লেংথের বল বুঝতে না পেরে বোল্ড হন ইসমত আলম। এরপরই লিটন দাসের কৃতিত্বে দ্বিতীয় উইকেটটি পান হাসান, যখন ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বল ঝাঁপিয়ে পড়ে তালুবন্দি করেন উইকেটকিপার। সবশেষে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লুর আবেদনে শুরুতে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও, রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে ডিআরএস নিলে দেখা যায় বলটি স্টাম্প স্পর্শ করত। এই হ্যাটট্রিকের প্রতিটি উইকেট ছিল ভিন্ন ধরনের, যার মধ্যে দ্বিতীয়টিতে কিপারের সহায়তা থাকলেও বাকি দুটিতে এককভাবে বোলারের দাপট ছিল স্পষ্ট। কিন্তু আম্পায়ারের হয়তো মনে হয়েছে বল স্টাম্প মিস করে যাবে। তাই তো রিভিউ চাওয়া হবে কি না সিদ্ধান্ত নিতে আলোচনাও চলল নিজেদের মধ্যে। এরপরই জানা গেল, বল স্টাম্পে ঠিক ততটাই আঘাত করত, যতটা আউটের জন্য যথেষ্ট।
হাসানের অসাধারণ বোলিং তোপে আফগানিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে গেছে। ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিন শুরু করা আফগানরা মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। ম্যাচে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেছেন হাসান। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখা বাংলাদেশের জন্য এটি ১৬২তম ম্যাচ। প্রথম ইনিংস শেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ, যা ম্যাচে টাইগারদের শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে।