২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র তার বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় বিশ্বজুড়ে ৪৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৭৩০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। বরাদ্দের এই বিশাল অংকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে ইউক্রেন। দেশটি মার্কিন প্রশাসন থেকে প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার সহায়তা লাভ করেছে। তবে ইউক্রেনের এই প্রাপ্তির পুরো অংশই ২০২৫ সালের নতুন সহায়তা নয়, বরং এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ছাড়ের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউক্রেনকে দেওয়া মোট ৬জি৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার মধ্যে সামরিকবহির্ভূত খাতে ৫৬৯ কোটি ডলার এবং সামরিক সহায়তায় ১০১ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে মোট সহায়তা দাঁড়ায় প্রায় ৬৬৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ফলে ইউক্রেনের ২০২৫ সালের মোট অর্থছাড়কে পুরোপুরি ওই বছরের নতুন সহায়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে কোনো অর্থবছরে অর্থছাড় মানেই ওই বছরেই নতুন করে সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে—এমন নয়।
তালিকায় সহায়তাপ্রাপ্ত দেশের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল, যারা পেয়েছে ৩৩১ কোটিরও বেশি ডলার। ইসরায়েলের প্রাপ্ত সহায়তার ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশই ছিল সামরিক খাতের। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জর্ডান পেয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ডলার, যার ৭৪ শতাংশ ছিল অ-সামরিক বা বেসামরিক সহায়তা। শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য দেশগুলোর মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে; সহায়তাপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই এই মহাদেশের। চতুর্থ স্থানে থাকা ইথিওপিয়া পেয়েছে প্রায় ৯২ কোটি ডলার। এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (৭৫ কোটি ডলার), নাইজেরিয়া (৭৩ কোটি ডলার), সুদান (৭১ কোটি ডলার), কেনিয়া (৬৫ কোটি ডলার), মোজাম্বিক (৫৮ কোটি ডলার) এবং উগান্ডা (৫১ কোটি ডলার)। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার শীর্ষ ১০ গ্রহীতার মধ্যে সাতটিই আফ্রিকার দেশ।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বড় অঙ্কের সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশও মার্কিন অর্থ সহায়তা পাওয়ার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৩৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছে, যা দেশটিকে সহায়তাপ্রাপ্তির তালিকায় ২০তম অবস্থানে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সহায়তা খাতের বিভাজন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৯৩ কোটি ডলার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হয়েছে। এছাড়া মানবিক সহায়তায় ৮৯৯ কোটি ডলার, শান্তি ও নিরাপত্তা খাতে ৭৩১ কোটি ডলার এবং অন্যান্য উন্নয়ন ও প্রশাসনিক খাতে ২ হাজার ৭ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সহায়তা প্রদান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।