স্পোর্টস ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আবুধাবি টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তাদের সংগ্রহ ৩৪৬ রানে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আফগানিস্তানের ব্যাটারদের পরীক্ষা। নাঈম হাসান ৩৫ রানে অপরাজিত থাকলেও, দিনের শুরুতে অন্য ব্যাটাররা তাকে সঙ্গ দিতে পেরেছেন কেবল ৮.২ ওভার। বল হাতে নিয়ে বাংলাদেশ বোলাররা উইকেট পাওয়ার জন্য বারবার দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। দিনশেষে প্রায় আড়াই সেশন ব্যাট করে আফগানিস্তান ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান সংগ্রহ করেছে। কিন্তু তাঁর বিদায়ের পর আরও বড় অপেক্ষারই শুরু হয় বাংলাদেশের, যেটির স্থায়ীত্ব ছিল ২৫.১ ওভার। আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা কেটে গেল অপেক্ষায় অপেক্ষায়। আজও অবশ্য তাঁকে আউট করতে পারেনি আফগানিস্তান। আজও সেই চরিত্র তেমন বদলাতে দেখা যায়নি। তবু তৃতীয় ওভারেই উইকেট পেয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা ছিল না, যার প্রতিফলন দেখা গেছে পুরো দিনজুড়ে। দিনের শুরুতে হাসান মাহমুদের বলে সেদিকুল্লাহ আতাল স্লিপে ক্যাচ দিলেও রিভিউ না নেওয়ায় আক্ষেপ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে ১১তম ওভারে হাসান মাহমুদ ঠিকই সেদিকুল্লাহকে (১৭) সাজঘরে ফেরান। পরের উইকেটের জন্য টাইগারদের অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১০ ওভার। আব্দুল মালিক ২০ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন।
ইবাদত হোসেনই ভাঙেন আব্দুল মালিক ও শহীদুল্লাহ কামালের ৭০ রানের শক্ত জুটি। কামালের ব্যাট ছুঁয়ে বল লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়লে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়ে এসে হাশমতুল্লাহ শাহিদীকে শূন্য রানে স্টাম্পড করলে মাত্র ৫ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। কিন্তু এরপরই চিত্রপট বদলে যায়।
বাকি দিনের খেলায় আর কোনো উইকেট ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং রহমত শাহ ও ইকরাম আলীখিল দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের ১৯৪ বলের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ৭২ রান। অভিষিক্ত অধিনায়ক রহমত শাহ ৮৪ রান নিয়ে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে চলেছেন, আর ইকরাম অপরাজিত আছেন ২৬ রানে।
আগামীকাল দিনের শুরুতেই নতুন বল নেওয়ার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের সামনে। নতুন বলে পেসাররা সাফল্য না পেলে আফগানিস্তানের লিড নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রহমত ও ইকরামের এই ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।