ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়া নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) পক্ষে দাঁড়িয়েছেন দেশটির ১২৪ জন সাবেক আমলা ও কূটনীতিক। এক খোলা চিঠিতে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ তোলা হলে তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনমানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও ‘ভোট চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে আন্দোলন করছেন বিরোধীরা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সাবেক আমলা ও কূটনীতিকদের এই বিবৃতি এলো। গত শনিবার দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা আটক হন।
অভিজ্ঞ সাবেক এই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে ইভিএম সংরক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁদের রয়েছে। তাঁদের মতে, কারচুপিপূর্ণ নির্বাচন কেমন হয় তা সম্পর্কে তাঁরা ওয়াকিবহাল। একসময় ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রের ভয়, প্রভাবশালীদের দাপট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই কিংবা ভুয়া ভোটের মতো ঘটনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। এই ভয়াবহতা রোধেই ১৯৮৯ সালে ভোটকেন্দ্র দখলকে অপরাধ হিসেবে আইন করে ভারতের সংসদ। পাশাপাশি মেশিনে গণনা করা ভোটের সঙ্গে কাগজের স্লিপ মিলিয়ে দেখা হয়।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নতির উদাহরণ হিসেবে তাঁরা ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করেছেন। সেবার বিহারের ইতিহাসে প্রথম কোনো কেন্দ্রে পুনর্র্নিবাচন ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। ১৯৫১ সালের পর ওই নির্বাচনেই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হয় এবং নারীদের অংশগ্রহণের হারও ছিল অভূতপূর্ব। তাঁদের দাবি, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং নির্বাচন কমিশনের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করারই সুফল। নারীদের ভোটদানের হার ছিল রেকর্ডসংখ্যক।
ইভিএমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতি, স্বাক্ষরিত হিসাব রাখা এবং নিরাপদ কক্ষে সিলগালা করে রাখার মতো ব্যবস্থা রয়েছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এই ব্যবস্থার পক্ষে রায় দিয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বড় ধরনের কোনো কারচুপির ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা এবং বিরোধী প্রার্থীদের এজেন্টদের নীরব থাকতে হতো, যার কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত মেলেনি। যখন সহিংসতা কথা বলে, তখন গণতন্ত্র নীরব হয়ে যায়।’।
অবশেষে, চিঠিতে বিরোধী দলের উদ্দেশে কড়া প্রশ্ন রাখা হয়েছে যে, যে নির্বাচনী ব্যবস্থায় তারা অতীতে জয় পেয়েছে, এখন সেই ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই কেন সন্দেহ পোষণ করছে? মূলত জনসমর্থন হারানোর পর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাতেই এ ধরনের ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সাবেক এই কর্মকর্তারা। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া রাজনৈতিক উসকানি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দেয় বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘যে ব্যবস্থাকে আপনারা কারচুপিপূর্ণ বলছেন, সেই ব্যবস্থাই যদি আপনাদের বিজয় এনে দিয়ে থাকে, তাহলে নিজেদের প্রশ্ন করুনÑআপনারা কি ব্যবস্থাটিকে সন্দেহ করছেন, নাকি শুধু ফলাফলকে।