ঢাকা, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): অনলাইনভিত্তিক চাকরি ও মোটা অংকের বিনিয়োগের প্রলোভনে পড়ে এক ব্যবসায়ী ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা খুইয়েছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২) নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে। ৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তদন্তকারী সংস্থার তথ্যমতে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্র। তাকে বিদেশি পর্যটনকেন্দ্রের রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার বিনিময়ে দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি তাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছু টাকা পাঠিয়েছিল। এরপর তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে নেদারল্যান্ডসের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা হয়। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে একটি টেলিগ্রাম আইডি থেকে ওই ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে অনলাইন পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব আসে।

বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন এবং অন্যান্য সদস্যদের বিনিয়োগের জাল স্লিপ দেখে ওই ব্যবসায়ী প্রলুব্ধ হন। ২২ আগস্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন শর্ত ও ধাপে নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে চক্রের দেওয়া নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ওই ব্যবসায়ী মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা পাঠান। তবে টাকা পাওয়ার পর চক্রটি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো মুনাফা দেয়নি। উল্টো বাড়তি অর্থ দাবি করলে ব্যবসায়ীর সন্দেহ হয় এবং তিনি আগের টাকা ফেরত চাইতে গেলে চক্রটি তার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। চক্রের অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি দেখানো হলে ওই ব্যবসায়ীও এতে আকৃষ্ট হন। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাঁকে আরও অর্থ পাঠাতে বলা হয়।

পল্টন থানায় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর দায়ের করা মামলার তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চক্রের মূল হোতা ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক ব্যক্তি। প্রীয়ন্তীর নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকেই মূলত ব্যবসায়ীকে শুরুতে প্রলোভনের অংশ হিসেবে টাকা পাঠানো হয়েছিল। যদিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ লেনদেনের নির্দেশদাতা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গ্রেপ্তার এই তরুণী। বর্তমানে তার সংশ্লিষ্টতা এবং হাতিয়ে নেওয়া অর্থের গন্তব্য শনাক্তে কাজ করছে সিআইডি। সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে টাকা পাঠানোর সময়ের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এই প্রতারণার ঘটনায় প্রীয়ন্তী ছাড়াও আরও ছয়জনকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন ইতিমধ্যে আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ধরনের অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচতে অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া কোনো প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।