মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়োজিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক কোরআন তিলাওয়াত ও হিফজ প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরার গৌরব অর্জন করেছেন বাংলাদেশের প্রতিযোগী এহতিশামুল হক হিরা। তিনি ঢাকার মারকাযু ফয়জিল কোরআন আল ইসলামীর একজন শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতার পুরুষদের হিফজ বিভাগে তিনি ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ১০ অক্টোবর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তার এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।
পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা গত ৬ অক্টোবর শুরু হয়ে শুক্রবার শেষ হয়েছিল। কুয়ালালামপুরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (ডব্লিউটিসি) আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসরের উদ্বোধন করেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এবারের হিফজ বিভাগে বাংলাদেশের হিরার সঙ্গে একই পয়েন্ট অর্থাৎ ৯৭ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সিরিয়ার প্রতিযোগী আবদুল রহমান জামাল ইব্রাহিম। এছাড়াও এই বিভাগে ৯৬ দশমিক ৩৩ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন স্বাগতিক মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ ইজ্জুল আফনান সাজালি।
প্রতিযোগিতার অন্যান্য বিভাগে নারীদের তিলাওয়াত ক্যাটাগরিতে ৯১ দশমিক ৮৩ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন মালয়েশিয়ার নুর শাকুরা মোহাম্মদ মুসা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিঙ্গাপুরের আতিকাহ বিনতে সুহাইমি পেয়েছেন ৯১ নম্বর এবং ৯০ দশমিক ৮৩ নম্বর নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন ব্রুনেইয়ের দায়াংকু সিতি উম্মি শায়জানা বিনতে পেঙ্গিরান হাজি মারজুকি। এছাড়া পুরুষদের তিলাওয়াত বিভাগে ৯৪ দশমিক ৬৭ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মুহাম্মদ ফাউজি রিদওয়ান। দ্বিতীয় হওয়া মালয়েশিয়ার সিক হাসনুল তাকিয়ুদ্দিন সিক সাজালি পেয়েছেন ৯২ দশমিক ৯৯ নম্বর। এ বিভাগে ৯২ দশমিক ১৭ নম্বর পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন বেলজিয়ামের ব্রাহিম বুগালাব। ৯৫ দশমিক ৫০ নম্বর নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন লিবিয়ার মিন্নাহ আলী আলসুদানি আগনাইয়াহ।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হাফেজদের সাফল্য দীর্ঘদিনের। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি হাফেজরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ৩৭ বার প্রথম স্থান অর্জনের গৌরব অর্জন করেছেন। এর বাইরেও হুফ্ফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক কিরাত সংস্থা বাংলাদেশের তথ্যমতে, ১৯৮২ সালে কারি আবদুল হকের সাফল্যসহ বিভিন্ন সময়ে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ইতিহাস রয়েছে। এ সময়ে ৩৫ জন বাংলাদেশি হাফেজ এ সাফল্য পেয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্যধারা অব্যাহত রয়েছে। এর আগের বছরগুলোতে ইরানে বশির আহমদ, সৌদি আরবে আনাস বিন আতিক, তুরস্কে মুআজ মাহমুদ, কুয়েতে আনাস মাহফুজ এবং সেনেগালে অনুষ্ঠিত ১১তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় হাফেজ আবু রাইহান প্রথম হয়েছিলেন। একই সঙ্গে মুআজ মাহমুদ সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ২০২৫ সালে মিশরে প্রথম স্থান অর্জন করেন আনাস বিন আতিক। ২০২৬ সালে মালয়েশিয়ায় হাফেজ ইব্রাহিম শেখ এবং সৌদি আরবে ১৫ পারা হিফজ বিভাগে হাফেজ মোহাম্মদ নুরুদ্দিন জাকারিয়াও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। এরপর ১৯৯৪ সালে ইরানে সাখাওয়াত হোসাইন এবং ১৯৯৬ সালে একই দেশে মাহমুদুল হাসান চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৯ সালে মিশরে ইমদাদুল্লাহ এবং ইরানে ফরিদ আহমদ প্রথম স্থান অর্জন করেন।