আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুর জেলার পীরগঞ্জ পৌরসভা ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হলেও নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত অপবাদ মাথায় নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে সকল প্রকার কার্যক্রম। পীরগঞ্জ পৌরসভা গঠণের শুরু থেকেই পীরগঞ্জ বাজারের গালামাল ব্যবসায়ী সবার পরিচিত মুখ মো. লুলু মিয়া ওরফে চাঁন মিয়া তাঁর ব্যবসা বাদ দিয়ে স্বেচ্ছায় ব্যস্ততম এলাকা বাজার মোড়ে ভীড় সামলাতে ট্রাফিকের কাজ শুরু করেন। সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগ ও ভালবাসার টানে চাঁন মিয়া প্রতিদিন বিকেল বেলা তাঁর নিজের কাজ ফেলে বিনা পারিশ্রমিকে ভিড় সামলানোর কাজে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করেন নিজস্ব তাগিদে।
শুরু থেকে বাজারের ব্যবসায়ীরা দশ পাঁচ টাকা করে দিলে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা কালেকশন হয়, তা দিয়ে কোনমতে টেনেটুনে সংসার চালান চাঁন মিয়া। ২০১৬ সালে তৎকালীণ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম তাঁর পরিষদসহ সিদ্ধান্ত ক্রমে মাস্টাররোলে পৌরসভার আওতাভূক্ত নিয়োগ দিয়ে চাঁন মিয়ার মাসিক ভাতা ছয় হাজার টাকা নির্দ্ধারণ করেন। বাজার কালেকশন ও পৌসভার ভাতা দিয়ে কস্টের মধ্য দিয়ে সংসার চলে চাঁন মিয়ার। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ সামলিয়ে সংসার পরিচালনা অনেক কস্টসাধ্য হলেও নিরুপায় চাঁন মিয়া তাঁর কর্তব্যে অবিচল থাকেন। আগে দুই ঘন্টা ডিউটি করলেই চলে যেত,কিন্তু যানবাহন ও ভীড় সামলাতে মেয়রের বিশেষ অনুরোধে চাঁন মিয়ার ডিউটি বেড়ে দিনে চার ঘন্টা করে পালন করতে হয়। সে মোতাবেক বেতন বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে সাত হাজার।
পৌরসভার ওসমানপুর গ্রামের মৃত আলহাজ্ব আইয়ূব আলীর পুত্র চাঁন মিয়া তিন কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে আফরিন আক্তার চুমকী ইসলামের ইতিহাসে মাস্টার্স,দ্বিতীয় মেয়ে আফিফা আক্তার ডিপ্লোমা নার্স ও তৃতীয় মেয়ে চৈতী আক্তার জুইফা ইসলামের ইতিহাসে অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত। সংসারের ব্যয় বাড়লেও বাড়েনি চান মিয়ার শ্রমের মূল্য। প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্দ্ধারিত বাজারমোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন শেষে চাঁন মিয়া তাঁর চার্জার মোটর সাইকেল নিয়ে হুইসেল বাজিয়ে গোটা পৌর বন্দরে ঘুরে বেড়ান। রাতে অনেকের বিপদে আপদে চাঁন মিয়াকে মোবাইলে কল দিলেই হাজির হয়ে যান তিনি। যার যা প্রয়োজন তা মেটাতে চাঁন মিয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখে তৎপর থাকেন। রতে বিশেষ প্রয়োজনে চাঁন মিয়াকে পাশে পাননি এমন মানুষ পৌর এলাকায় নেই বললেই চলে। সারা রাত চাঁন মিয়ার বাঁশির আওয়াজে ভরসা বেড়ে যায় পৌরবাসীর কিন্তু শুধু বেতন বাড়ে না তাঁর, অনেক দুঃখ করে আর্থিক কস্টের কথা জানালেন এ প্রতিবেদকের কাছে।
রাতে জরুরি ঔষধের প্রয়োজন,কিংবা গ্যাস ফুরিয়ে গেছে, অথবা দরকারী কিছু প্রয়োজন, চাঁন মিয়াকে ফোন করলেই মিলবে তাঁর সহাস্য উপস্থিতি। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৌরসভায় প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। পৌরবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও মহোদয়ের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে চাঁন মিয়ার ভাতা বৃদ্ধির জন্য। এলাকাবাসীর দাবি, নিঃস্বার্থ ভালবাসার অতন্ত্র প্রহরী,পৌরবাসীর আস্থা চাঁন মিয়ার ভাতা বৃদ্ধি করে তাঁর মানবেতর জীবন-যাপনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল বাকীউল বারী, এ প্রত্যশা পৌরবাসীর। এ ছাড়াও মানবিক কারণে চাঁন মিয়াকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য পৌরবাসীকে অনুরোধ করা হয়।