ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর উত্তরা থেকে নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম গোয়েন্দা পুলিশের করা ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অযথা হেনস্তা হচ্ছি। আমি কিচ্ছু জানি না। বাংলাদেশে আমি প্রায়ই আসি। আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে। উনারা যা যা বলছে, তার কিচ্ছু পায়নি আমার থেকে।’ ‘র’-এর এজেন্টের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না।’

এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের এসআই বিনয় কুমার রায়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিমান্ড আবেদনে রবিউল ইসলামের সন্দেহজনক কার্যক্রমের বিষয়টি তুলে ধরে ডিবি। এতে বলা হয়, তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি জানায়, রবিউল ইসলাম গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন। এরপর তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করে পাসপোর্ট দেখান। পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি পরীক্ষা করে দেখা যায়, এসব নথিতে থাকা জন্মতারিখের মধ্যে মিল নেই।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল ইসলাম এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। তবে বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি জানাতে পারেননি। জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে তিনি তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের দাবি।

এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশে কোনো ধর্তব্য অপরাধ এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে প্রবল সন্দেহের কথা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বাংলাদেশে আসার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করে ডিবি।