ঢাকা, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ সরকারবিরোধী বা মন্ত্রীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সাইবার হামলা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।পাশাপাশি সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘গলা চিপে ধরছে’ কি না তা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চান তিনি। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

হান্নান মাসউদ বলেন, ‘সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে উল্লেখ করে বলা হয়েছিল, তিনি নির্বাচিত নন, তাই ভোটিংয়ে অংশ নেবেন না। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর ওই সংবাদ সরিয়ে ফেলা হয়। একইভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলেকে নিয়ে ডেইলি ওয়াদা সংবাদ প্রকাশ করলে সেই সংবাদও সরিয়ে নিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, চ্যানেল ওয়ান-এ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই চ্যানেলে সাইবার হামলা হয়। ফলে অনেকদিন প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়নি।

হান্নান মাসউদ বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বা সরকারের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কোনও নিউজ করলে এই যে সাইবার অ্যাটাক এবং প্রতিবেদন সরিয়ে নেওয়ার নিউজগুলো আমরা দেখতে পাই, এতে করে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার কি মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলা চিপে ধরছে?’ এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর ব্যাখ্যা জানতে চান তিনি।

জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থের পক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের যেকোনও সময়ের তুলনায় বর্তমানে গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে গণমাধ্যমকে আমরা কোনো রকম কন্ট্রোল করতে চাচ্ছি না, করছিও না।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম স্বাধীন। কোন সংবাদ আপলোড করবে, কোন সংবাদ ডাউনলোড করবে, কোন সংবাদ ছাপবে বা ছাপবে না, এটি তাদের নিজস্ব বিষয়। এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না।’

তিনি বলেন, ‘কেউ যদি কোনো সংবাদ পরিবেশন করার পরে বুঝতে পারে যে সংবাদটা সঠিক নয় বা সংবাদটা পরিবেশন করা উচিত নয়, সেক্ষেত্রে তারা অবশ্যই খবরটা সরিয়ে নিতে পারেন। সে বিষয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করি না এবং আমরা সংবাদ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি বলেই আমরা হস্তক্ষেপ করব না।’