ঢাকা, ৩০ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও গণসমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যজোট। ‘বাংলাদেশ গুম প্রতিরোধ দিবস পালন জাতীয় কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু আইনে রূপান্তর করাসহ ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর মোড় থেকে এই পদযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর মিছিলটি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে পৌঁছায়।
পদযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার মুখপাত্র ও সহসভাপতি রাশেদ প্রধান অংশ নেন।
এছাড়াও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ১১ দলের শীর্ষ নেতাসহ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা এই কর্মসূচিতে শামিল হন।
এর আগে দুপুর ৩টার দিকে বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারের সামনে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কঠোর সমালোচনা করা হয়।
এ সময় সভাপতির বক্তব্যে হাসিনুর রহমান সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানান। সমাবেশে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে পদযাত্রায় তারা ‘বাংলাদেশে আয়নাঘর, থাকবে না রে থাকবে না’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’, ‘ঘেরাও ঘেরাও হবে, সংসদ ভবন ঘেরাও হবে’ এবং ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিতে থাকেন।
স্পিকারকে দেওয়া স্মারকলিপিতে মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনের প্রতিবেদনে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু আইনে রূপান্তর করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদাসহ পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট দাবিও তুলে ধরা হয়।