ঢাকা, ২০ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার অভিযোগ তুলে দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে সার্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট রয়েছে, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে বিএনপিরও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। ইসলামী আন্দোলন প্রত্যাশা করেছিল, জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া সেই নীতিগুলো অনুসরণ করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তা না হওয়ায় এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সমীচীন মনে করছে না দলটি।’

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘জুলাই সনদে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত বিষয়গুলোর মধ্যে ‘রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামে ধারা-১০-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এ ধারার বিষয়ে বিএনপিও একমত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধারা-২৮-এ জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটদানের প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়েও বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছিল এবং কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।’

তবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এই দুইটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারী ছাড়া আর কিছু নয়।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘যে নীতি ও আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন হচ্ছে, তাকে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কি না বা এর প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা নিশ্চিত হয়েই আছে। তাহলে এত আয়োজনের অর্থ কী?’

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান যার নাম ঘোষণা করবেন, তাকেই বঙ্গভবনে নিয়ে রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসিয়ে দিলেই হতো। আক্ষরিক অর্থে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের কাজ কী, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষায়, এসব আয়োজন জনগণের অর্থের অপচয় এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু নয়।’

ইসলামী আন্দোলন এ প্রক্রিয়ার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মেনে সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নতুনভাবে আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদে দ্বিতীয়বারের মতো ভোটাভুটি শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে আজ দুপুর ২টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।