আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ১৮ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদি থেকে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি জমি,বাড়িঘর ও তৎসংলগ্ন রাস্তাঘাট। অবৈধভাবে এ সব পয়েন্ট থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে, গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কগুলির ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। উপজেলার করতোয়া নদির বুকে প্রায় অর্ধশতাধিক পয়েন্ট থেকে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত্রী ওই বালু উত্তোলনের কাজ চলছে। করতোয়া নদিতে বিভিন্ন পয়েন্টে মেশিন বসিয়ে নির্বিগ্নে বালু উত্তোলন করে চলেছেন বালু ব্যবসায়ীগণ। উপজেলার করতোয়া নদি ছাড়াও আঁখিরা নদি সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলগুলির পুকুরে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন চলছে। এতে হুমকীর মুখে পড়েছে ওই সকল এলাকার রাস্তা-ঘাট,ঘর-বাড়ি ও কৃষি জমি।

জানা গেছে, করতোয়া নদির কোল ঘেঁষা ইউনিয়ন সমূহ- টুকুরিয়া,বড় আলমপুর,চতরা ও কাবিলপুর ইউনিয়নের সবগুলো পয়েন্ট থেকে ব্যাপকহারে বালু উত্তোলন ও বিক্রী করে যাচ্ছেন বালু ব্যবসায়ীরা। টুকুরিয়া ইউনিয়নের পাড় বোয়ালমারী গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম ও তার ভাই মো. আনোয়ার হোসেন এবং পার্শ্ববর্তী মো. মনোয়ার হোসেনের একটি সহ মোট তিনটি পয়েন্টে দিবা-রাত্রি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া কাঁচদহ ঘাটে ড. ওয়াজেদ সেতু সংলগ্ন উজানে একটি পয়েন্টে মো. সাজেদুল ইসলাম দিন-রাত বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন।

৭নং বড় আলমপুর ইউনিয়নের শিমুলবাড়ী গ্রামে আরিফুল ইসলাম ও ফুল মিয়া, বানুর ঘাটে বিপ্লব মিয়াসহ কয়েকজন,হোসেনপুর গ্রামে নাজমুল ইসলাম, বাঁশপুকুরিয়ার জাহিদ মিয়া,দক্ষিণ শালপাড়ার মোসাদ্দেকুল,শহীদুল,মাহাবুবার রহমান,আনিছার রহমান নির্বিঘ্নে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন। ১৪ নং চতরা ইউনিয়নের গিলাবাড়ি গ্রামের মনারুল ইসলাম পৃথক পয়েন্টে বালু উত্তোলন করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে টুকুরিয়া এবং চতরা ইউনিয়নের বালুর পয়েন্টের রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল,রিক্সা-ভ্যান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে ও পথচারীরা দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গত বছর প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে ওই সকল বালুর পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে মোটা অংকের আর্থিক লেন-দেনের মাধ্যমে রফা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। লোক দেখানো দু’একটি পয়েন্টে জরিমানা করা হলেও বাকী সব পয়েন্টে দেধারছে বালু উত্তোলন ও বিক্রয় চলছে। এ ব্যাপরে জানতে চাইলে ৬নং টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানালেন,” বালু পরিবহনের ফলে রাস্তাগুলির বেহাল অবস্থা,তা ছাড়া ধুলাবালি উড়ে গিয়ে বাড়িঘরগুলি ধুলিময় থাকে সর্বক্ষণ,জনজীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।”

ধুলাবালির কারণে ওই সকল এলাকায় শাসকস্ট জনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে বলেও তিনি এ প্রতিবেদককে জানালেন। এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তানভীর আহমদ জানান, ” করতোয়া নদির বালু উত্তোলন সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ করা আছে,আমাদের নিকট কোন অভিযোগ এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও ড্রেজার মেশিন ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”