আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৪ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি স্তরের জনপ্রতিনিধিদের মাথার ওপরে ঝুলছে খড়গ্ হস্তের দামামা। উপজেলার সকল স্তরেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করে সেখানে বসিয়ে দেয়া হয়েছে প্রশাসক ও প্যানেল চেয়ারম্যান। সবাইকে ফ্যাসিস্টের দোসর ট্যাগ লাগিয়ে, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তারের হুমকীতে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে অনেককেই। উপজেলা পরিষদ,পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আজ আর কেউ দায়িত্বে নেই বললেই চলে। কেউ কেউ দায়িত্বে থাকলেও তাঁরা নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। যে সকল প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন,তাঁদেরকেও কোন না কোন ভাবে ট্যাগ লাগিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি ৫ই আগস্ট ও ১৫ই আগস্টকে সামনে রেখে যে সকল জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্বে আছেন,তাঁদেরকে নিয়েও হুমকীর গুজবে জড়ানো হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক্য ইউপি চেয়ারম্যান জানান, “আমরা জনপ্রতিনিধিরা, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে থাকলেও সর্বদাই অনিরাপত্তায় দিনাতিপাত করছি। প্রতিট মূহূর্তই আমাদের মাথার ওপরে হুমকীর খড়গ্ হস্ত দন্ডায়মান থাকে। জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই আমাদের।”
একজন জনপ্রতিনিধি তাচ্ছিল্যের সূরে জানালেন, “তোকে খাব,তুই আমার পানি ঘোলা করছিস কেন? ভাটি থেকে কি পানি ঘোলা করা যায়? উত্তরটা- তুই পানি ঘোলা করিসনি,তোর বাপ করেছে। ” সে রকমই অবস্থা আর কি।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যে ভাবে জনসেবা করা প্রয়োজন-ঠিক সেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন না।প্রতি পদে পদে আশংকা থাকে, কখন জানি কোন প্রতিবন্ধকতা ভর করে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের উপায় না থাকলে উপকারভোগী সাধারণ জনসাধারণ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। ওই সুযোগে স্থানীয় কিছু নেতা জনপ্রতিনিধিদের নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন বলেও অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে সরকারি দল ও সরকারের উচিৎ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বাচ্ছন্দে কর্ম পরিবেশ সৃস্টি করে দেয়া, এটা স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত।