ঢাকা, ০২ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): অলাইনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সুযোগ আসছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ই-পাসপোর্ট ডাটা শেয়ারিং করতে যাচ্ছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। পাসপোর্ট যাচাই সেবা নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এককালীন ৫ লাখ টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ১ লাখ টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিবার শুধু তথ্য ও উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য ৩ টাকা আর বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের জন্য ১০ টাকা ফি নির্ধারণ করতে চায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এ ক্ষেত্রে সেবাপ্রত্যাশী প্রতিষ্ঠানকে নিজ ব্যয় ও দায়িত্বে লিংক স্থাপন ও প্রয়োজনীয় আইসিটি সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। পাসপোর্ট যাচাই সেবা নিতে আগ্রহীদের কাছে ডাটা শেয়ারিং নীতিমালা পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এতদিন পাসপোর্ট যাচাইয়ের কোনো সুযোগ ছিল না। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে রক্ষিত তথ্যভান্ডারের নিরাপত্তা ও মান বজায় রেখে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী ডাটা শেয়ারিংয়ের লক্ষ্যে পলিসি, নির্দেশিকা, এসওপি, এমওইউ, এনডিএ (নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ অনুমোদন করেছে। তবে এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র আরও জানায়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের পর থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট সেবা দিয়ে আসছে। ফলে নাগরিকদের ডেমোগ্রাফিক (নিজের নাম বাংলা ও ইংরেজি, পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামী/স্ত্রীর নাম, জন্ম তারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা) এবং বায়োমেট্রিক ডাটার একটি সুবিশাল তথ্যভান্ডার এই অধিদপ্তরে জমা রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়া আগের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এখনো চালু থাকায় সেটিরও একটি সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার রয়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা তাদের কার্যক্রম সূচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের রক্ষিত তথ্যভান্ডার থেকে পাসপোর্ট-সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য প্রায়ই চাহিদা পাঠিয়ে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যের নিরাপত্তা ও মান বজায় রেখে ডাটা শেয়ারিং কার্যক্রমকে একটি সার্বিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। এ কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাসপোর্ট ডাটা যথোপযুক্ত নিরাপত্তা ও বিধিবিধান নিশ্চিত করে শেয়ার করা সম্ভব হবে।
ডাটা শেয়ারিং নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়, ডেমোগ্রাফিক ডাটার ক্ষেত্রে সেবা নিতে আগ্রহী সংস্থার যেসব প্রয়োজনীয় একটি তালিকা এই নীতিমালার সঙ্গে সংযুক্ত ডাটা ফিল্ড রিকোয়েস্ট ফরমের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। চাহিদা পাওয়া সাপেক্ষে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বিভিন্ন ডাটা ফিল্ডের তথ্যের চাহিদার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করে ডাটা শেয়ারিংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বায়োমেট্রিক ডাটা শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু ‘ইয়েস’ বা ‘নো’ ফলাফল পাবে। এ প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই বায়োমেট্রিক ডাটা শেয়ার করা হবে না। বায়োমেট্রিক ডাটা ম্যাচিংয়ের ফলাফল শুধু ‘ইয়েস’ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডেমোগ্রাফিক ডাটা শেয়ার করা হবে। ডাটা শেয়ারিং-সংক্রান্ত কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তর ডাটা শেয়ারিংয়ের জন্য ব্যবহৃত সব অবকাঠামো, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার (এপিআইসহ) পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা করবে।
নীতিমালায় আরও জানানো হয়, সেবাপ্রত্যাশী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন নাগরিকদের তথ্য-উপাত্তের সঠিকতা জানতে ডেমোগ্রাফিক ও বায়োমেট্রিক উভয়ই করতে পারবে। নাগরিকদের জাতীয় পরিচিতি নম্বর ও জন্মতারিখ পাসপোর্ট ডাটাবেজে পাঠানোর সুযোগ শুধু উভয় পক্ষের সম্মতিতে হবে। সেবাপ্রত্যাশী প্রতিষ্ঠানের পক্ষের নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যবহারকারীর মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান পাসপোর্ট ডাটা ব্যবহারের এই সুযোগ কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ব্যক্তি, সত্তা, পক্ষ বা প্রতিষ্ঠানের জন্য কিংবা সর্বজনীনভাবে উন্মুক্ত রাখা যাবে না। শুধু ওই তথ্যাদির সঠিকতা যাচাই করতে পারবে। তবে পাসপোর্টের শেয়ারকৃত কোনো ডাটাই সংরক্ষণ করতে পারবে না।
পাসপোর্টের তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের সুবিধা গ্রহণে কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে, কেন এই চুক্তি বাতিল করা হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত নোটিশ দেবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে এই চুক্তি বাতিল এবং মূল্য সংযোজন করসহ প্রযোজ্য চার্জ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে পাসপোর্ট যাচাই সুবিধা স্থগিত করতে পারবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নিজস্ব তথা-উপাত্ত রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে কমপক্ষে ৯০ দিনের লিখিত নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কমপক্ষে ৯০ দিনের লিখিত নোটিশ দিয়ে এই চুক্তি বাতিল করতে পারবে। নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য-উপাত্ত যাচাইয়ের জন্য তথ্য-উপাত্তের গোপনীয়তা রক্ষাসহ প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তা বাংলাদেশে প্রচলিত আইন বা আইনি কাঠামোর আওতাভুক্ত হবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন ও নতুন নিবন্ধনে ভোগান্তিতে পড়ছেন ইসি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, সারা বছর এনআইডি সংশোধনের পাশাপাশি নতুন ভোটার নিবন্ধনের আবেদন আসছে। প্রবাস থেকে আসা ব্যক্তিরা আবেদনের সঙ্গে সহায়ক দলিল হিসেবে পাসপোর্টের কপি দেন। অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সুবিধা না থাকায় অনেক সময় আবেদনকারীকে মূল পাসপোর্টসহ কার্যালয়ে ডাকা হয়। এ ছাড়া অনেকে নাম, বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন চেয়ে আবেদনের সঙ্গে এফিডেভিট জমা দেন। এগুলোও অনলাইনে যাচাই করতে না পারায় কাজে বিলম্ব হয়।
জানা যায়, অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাই করতে না পারায় জটিলতার বিষয়টি বিভিন্ন সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইসিকে জানান। ২০২২ সালের জুন মাসে মাঠ কর্মকর্তারা ইসি সচিবকে এ বিষয়ে একটি চিঠিও দেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি অনলাইনে পাসপোর্ট যাচাইয়ের সুবিধা চেয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে চিঠি দেয় ইসি। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ২৮ জানুয়ারি চিঠি দিয়ে ইসিকে জানায়, সরকারি সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ডাটা শেয়ারিংয়ের লক্ষ্যে ইন্টারনেট ডাটা এক্সচেঞ্জ (আইডিএক্স) প্ল্যাটফর্ম তৈরির কার্যক্রম চলছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে ডাটা শেয়ারিং সম্ভব হবে।
ডাটা শেয়ারিংয়ের বিষয়ে তখন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জানায়, ডাটা শেয়ারিং কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করার কাজ চলছে। নীতিমালাটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এটি চূড়ান্ত করলে আমরা ডাটা শেয়ারিংয়ের বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে পারব।