ঝিনাইদহ, ৩০ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলার সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দিল্লিতে দাফন হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে অন্য কিছু হতে পারত। যেহেতু সে পালিয়ে গেছে, তার মানে আওয়ামী লীগ আর দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনা অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে যদি নেতাকর্মীদের দেশে রেখে বিদেশে পালিয়ে না যেতো, তাহলে অন্যকিছু হতে পারত। কিন্তু পালিয়ে গেলে আর ফেরা যায় না। কারণ, হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কারণে দেশে তাদের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে গেছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি দিল্লিতে দাফন হয়ে গেছে।
এসময় এনসিপি ও জামায়াতের রাজনীতির সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, এনসিপি বাংলাদেশে নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে নতুন ভণ্ডবস্তের রাজনীতি শুরু করেছে। এনসিপিকে বলব, গঠনমূলক রাজনীতি করুন। এনসিপির রাজনীতি এখন জামায়াতের পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন রাশেদ খান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের নানা দিক তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বারবার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এর আগে বলেছেন, তার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এখন কারো মেরুদণ্ড ভাঙতে চান না। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, দেশটা সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে গড়তে হবে।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। সভায় জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মাহফুজ হোসেন, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন।
সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপের পরামর্শ দেন রাশেদ খান। সেই সঙ্গে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুধীজনরা অংশ নেন।