ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২৫ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ শনিবার দিল্লিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষা সংকট, প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম, বেকারত্ব ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z)।

আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। বিশেষ করে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে রাজধানী দিল্লির রাজপথ বিক্ষোভে উত্তাল উঠে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ব্যানারে হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ জন্তর মন্তর এলাকায় কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছিল সিজেপি। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া তারা কোনো অবস্থাতেই আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। তাদের দাবি ছিল, শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় মন্ত্রীর ওপর বর্তায় এবং এর রাজনৈতিক দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।

আন্দোলন ঘিরে সরকারের সঙ্গে সিজেপির প্রতিনিধিদের ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো বৈঠকেই সমাধান না আসায় আন্দোলনকারীরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই বৈঠকের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে আন্দোলনকারীরা তাদের আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগেই তাদের দাবি শেষ হচ্ছে না। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকার নতুন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ এবং চলমান শিক্ষা সংকট মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে দেশজুড়ে।