ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আজ শুক্রবার বিকালে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্পিকার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমানে আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।
সংবিধানের অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত বা দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে, তা নিয়ে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে।
এদিকে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন আগেই পদত্যাগের মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন এবং বিদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন। স্পিকার দেশে না থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হচ্ছিল।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি লন্ডনে যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। ওই সফরের সময় তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানতে পারার পরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলেও খবরে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরলে সফর সম্পর্কিত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে নানা মহল থেকে অসন্তোষ দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিভিন্ন সময়ে তার পদত্যাগ ও বিচার দাবি করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। ফলে এসব বিষয়ে বিবেচনায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ৭৫ বছর বয়সি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকেই তার পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার পদত্যাগের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো।