ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সব মহানগরের পার্ক ও খেলার মাঠগুলোকে অবৈধ দখলমুক্ত করে শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী ও মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে ঢাকার অধিকাংশ পার্ক ও মাঠ উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)।

এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।