ঢাকা, ১৫ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থানে বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর করা হবে। আপিলের সুযোগ থাকলে তা আইন-আদালতই নির্ধারণ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) বলছেন, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন। আমরাও চাই তার প্রত্যাবর্তন হোক, তবে আইনানুগভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রথমেই তার রায় কার্যকর করা হবে। আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। আপিলের সুযোগ থাকলে আদালত তা দেখবে।’

তিনি বলেন, দেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিদেশে আশ্রয় নেওয়া সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। খুব শিগগিরই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার কোনো নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সম্ভব হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার করা সম্ভব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হয়েছে, তাই তার সরকারের কর্মকাণ্ডের দায় সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকেও বহন করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গণহত্যায় জড়িত ছিলেন এবং দলটি এ ঘটনায় এখনো কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না প্রশাসনিক আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হোক। এটি অবশ্যই বিচারিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হবে। তবেই ফ্যাসিবাদী রাজনীতির স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা সম্ভব।’

আওয়ামী লীগের অতীতের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটির ইতিহাস গণতন্ত্র ধ্বংস, একদলীয় শাসন, দমনপীড়ন ও সহিংসতার ইতিহাস। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাস গৌরবের। কিন্তু একটি মাফিয়া ছাত্রসংগঠন সেই ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আমরা ছাত্রসমাজকে সেই কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে চাই।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের সম্পদ নয়। এটি সমগ্র জনগণের সংগ্রামের প্রতীক। এই চেতনাকে রাজনৈতিক ব্যবসার হাতিয়ার বানানো উচিত নয়। জুলাইয়ের শক্তিকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার আর ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সাহস না পায়।’