জাহাঙ্গীর হোসেন-জেলা প্রতিনিধি (পাবনা), ১৩ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ হাতেনাতে ধরার পর গ্রাম্য সালিশে তাকে ‘জুতা পেটা’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় বাক প্রতিবন্ধী নারীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই নারী একা ছিল। সেই সুযোগে প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁর তৃতীয় ছেলে মহব্বত আলী বাড়িতে প্রবেশ করে ওই প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। নারীর চিৎকারে বাড়ির আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

এ ঘটনায় থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়। সালিশে মহব্বত আলীকে শারীরিক শাস্তি হিসেবে ‘২০টি জুতার আঘাত’ দেওয়ার রায় দেওয়া হয় এবং সেখানেই বিচারকার্য সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে গুরুতর এই অপরাধকে এভাবে লঘু শাস্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেনএলাকাবাসীর দাবি, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমন অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে দ্রুত পুলিশের কাছে সোপর্দ করা উচিত ছিল।

প্রতিবন্ধী নারীর ভাই এরশাদ ও ভাবী মরিয়ম জানান, নাসির খানের আহ্বানে গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠাকে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর বাবু মোল্লা, সাবেক মেম্বার আঃ মালেক, সাবেক মেম্বার আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম।মরিয়ম খাতুন আরও জানান, সালিশি বৈঠাকে প্রধানরা ২০ টি জুতার বারির রায় ঘোষণা করে এবং তা কার্যকর করে। আমাদের লোকজনদের সালিশে কথা বলার সুযোগ দেয়নি। আমরা ওই সালিশের রায় মানি না।

এদিকে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ওই কিশোরীর বড় ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। গৌরিগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের জামায়াতের আমীর বাবু মোল্লা বলেন, বিচার করেছে মেম্বার- চেয়ারম্যান। আমি শুধু রায় বোর্ডে গিয় প্রথমে ৭ টা জুতার বারি ও কাদা গলায় দিয়ে সারা এলাকা ঘুরানোর কথা বলেছি। কিন্তু এটা না করে ২০ টা জুতার বারি দেয়। জুতার বারি দিয়ে দুই পক্ষের শেষ স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়েছে।গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব সালিশের রায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সালিশে আমাকে ডেকে নিয়েছিল। ওরাই বিচার করেছে। বিচারে রায় হয়েছে ২০ টা জুতার বারি দেয়ার। আমার পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে জুতার বারি দেয়া হয়। এই বিচারের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলে আমি বাদীপক্ষকে আইনে আশ্রয় নিতে বলেছি।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সালিশি বৈঠকের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি। আজকেই মামলা রজু করা হবে।