স্পোর্টস ডেস্ক, ০৯ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বিশ্বকাপে শীর্ষস্থানীয় বা পরাশক্তি দেশগুলোকে যতটা সম্ভব লম্বা সময় টিকিয়ে রাখতে একটি নিয়ম আনে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে উন্মোচিত এই নতুন নিয়মে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, চলতি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে শীর্ষ চার বাছাই দেশ কোনোভাবেই একে অপরের মুখোমুখি হবে না।

বাছাইয়ের সেই সূচি অনুযায়ী, তখন ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বর দল হিসেবে স্পেন এবং দুই নম্বরে ছিল আর্জেন্টিনা। নিয়ম মেনে এই দুই পরাশক্তিকে ড্রয়ের আলাদা দুই অর্ধে গ্রুপগুলোতে বণ্টন করা হয়েছিল। শীর্ষ চারের বাকি দুই দল ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডকেও একইভাবে ড্রয়ের বিপরীত দুই পাশে রাখা হয়। যার অর্থ দাঁড়ায়, সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ডের সামনে স্পেন বা আর্জেন্টিনা পড়ার কোনো সুযোগ ছিল না, আর ফ্রান্সের সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল কেবল ফাইনালে। তবে এই পুরো সমীকরণটি নির্ভর করছিল গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ওপর; শীর্ষ চার দেশের প্রত্যেকেই নিজ নিজ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই কেবল এই সমীকরণ মেলা সম্ভব ছিল।

মাঠের লড়াইয়ে ঠিক তেমনটাই ঘটেছে। চার পরাশক্তিই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে, যেখানে তারা একে অপরের মুখোমুখি না হয়ে লড়ছে ভিন্ন চার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। কোয়ার্টার ফাইনালের লাইনআপটি দাঁড়িয়েছে এমন: স্পেন বনাম বেলজিয়াম, আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স বনাম মরক্কো এবং ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ে।

নতুন এই নিয়মের কাঠামো অনুযায়ী, ড্রয়ের সময় যখন দুটি দলকে এভাবে আলাদা জোড়ায় ভাগ করা হয়, তখন ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না। এই একই পদ্ধতি উইম্বলডন টেনিস এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

একই র‍্যাংকিং পদ্ধতি গত গ্রীষ্মের ক্লাব বিশ্বকাপেও ব্যবহার করা হয়েছিল। যেখানে প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে (পিএসজি) ফাইনালে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসি। নকআউটের শুরুর রাউন্ডগুলোতেই যেন শীর্ষ বা পরাশক্তি দেশগুলো একে অপরের মুখোমুখি হয়ে বাদ না পড়ে, ফিফার সেই উদ্দেশ্য এখন একদম স্পষ্ট।

কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলোতে উপরে উল্লিখিত শীর্ষ চার প্রতিটি দলই সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। আর তারা যদি নিজ নিজ ম্যাচে জিতে যায়, তবে সেমিফাইনালে ফুটবলপ্রেমীরা দুই পরাশক্তি দেশের মধ্যকার দুটি জম্পেশ লড়াই দেখার সুযোগ পাবেন; ম্যাচ দুটি হবে: স্পেন বনাম ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড।

অবশ্য বড় বা শীর্ষ দলগুলোর প্রতি ফিফা সবসময়ই একটু বাড়তি পক্ষপাতিত্ব বা বাড়তি সুবিধা দেয়—এমন অপবাদ শোনার অভ্যাস বিশ্ব ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেশ পুরোনো। এর মধ্যে শেষ ষোলোর ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিতর্কিত ম্যাচ পরিচালনার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর।

ওই ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা মাত্র ১৪ মিনিটের ব্যবধানে অবিশ্বাস্যভাবে ৩ গোল ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলে, প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায় ‘দ্য ফারাও’ খ্যাত মিশর। মিশরীয় দলের দাবি, রেফারির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়ায় তাদের এই হারের পেছনে লেতেক্সিয়ের এক বিতর্কিত ও মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

মিশর এখন রেফারির সেসব সিদ্ধান্তের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে। একই সঙ্গে, তাদের ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পুরো ফরাসি রেফারি প্যানেলকে চলতি বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছে। মিশরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষ হতেই ফিফার বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি আর্জেন্টিনা এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রতি স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে।