আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৯ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): (এডিপি) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৬৪টি প্রকল্পই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রশাসকের নিজ উপজেলা পীরগঞ্জে। অপরদিকে জেলার বাকি সাতটি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৬৩টি প্রকল্প। এ নিয়ে জেলা জুড়ে বৈষম্যমূলক বরাদ্দের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অর্থবছরে রংপুর জেলা পরিষদের অনুকূলে এডিপি বরাদ্দকৃত অর্থের সাশ্রয়কৃত অর্থ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দ্বারা চলতি বছরের ১৭ মে জেলা পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১২৭টি প্রকল্প টেন্ডার ও প্রকল্প কমিটি (পিআইসির) মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নথিপত্র পর্যালেচনা করে দেখা যায়, ১২৭টি প্রকল্পের মধ্যে শুধু পীরগঞ্জ উপজেলায় বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা ৬৪টি, যা মোট প্রকল্পের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে বদরগঞ্জ উপজেলায় ১টি, মিঠাপুকুর উপজেলায় ৬টি, কাউনিয়া উপজেলায় ১১টি, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি, পীরগাছা উপজেলায় ১৩টি, তারাগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, সদর উপজেলায় ৬টি ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার অন্যান্য উপজেলার উন্নয়ন চাহিদা থাকা সত্ত্বেও একটি উপজেলাকে অধিকাংশ প্রকল্প দেওয়ায় উন্নয়ন বণ্টনে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। তাদের মতে, প্রকল্প বরাদ্দের ক্ষেত্রে জনসংখ্যা, অবকাঠামোগত চাহিদা ও এলাকার বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।
এদিকে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় তার নিজ উপজেলায় অধিকাংশ প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘এটা রিপোর্টের কোনো বিষয়ই না। আক্তার হোসেন নিজের এলাকার জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছেন। সজীব ভূঁইয়া ৩০০ কোটি নিয়ে গেছেন। আমাদের সব জায়গায় বরাদ্দ গেছে, ব্যালেন্সও ঠিক আছে । এ জন্য মানুষ কাজ করতে চায় না, কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ঘুষ খাচ্ছি কি না সেটা দেখেন, তা নিয়ে নিউজ করেন। এটা নিউজ করার মত বিষয়ই নয়। এটা হলো- প্রতিবন্ধকতার নিউজ। টাকা খাচ্ছি কি না এটা নিউজ করে দেখান। তাহলে আপনাদেরকে অ্যাওয়ার্ড দিব।’’
তিনি প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সবার উদ্দেশ্যে বলেন, “একটি উপজেলায় বরাদ্দ বেশী নেয়া হয়েছে প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়ে,পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় বরাদ্দ বাড়ানো হবে।” বরাদ্দকৃত প্রকল্প সমূহে কোন অনিয়ম,দূর্নীতি হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন।
জনাব সাইফুল ইসলাম জানান,” পীরগঞ্জে যে উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, সে প্রকল্পগুলিতে ইতিপূর্বে কোন বরাদ্দ পায়নি জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তা প্রদান করা হয়েছে।”