ঢাকা, ০৫ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপর আমার আস্থা-নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। সুতরাং, নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয় বা জনগণ যাতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।
‘নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডসের লক্ষ্য’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে সর্বদা আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সাহস ও দেশপ্রেমের শপথে দায়িত্ব পালন করায় তিনি পিজিআরের বর্তমান ও সাবেক সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউরের রহমানের শাহাদাতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শাহাদাতবরণ করার সময় কর্তব্যরত পিজিআরের কয়েকজন সদস্যও শহিদ হয়েছিলেন। আমি সেই শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি এবং মাগফিরাত কামনা করছি।’
দায়িত্ব পালনে তাদের এই জীবন উৎসর্গ পিজিআর সদস্যদের জন্য অটল আনুগত্য ও কর্তব্যপরায়ণতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই প্রথমে ‘‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’’ নামে এই রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর একে ‘‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’’ হিসেবে অভিহিত করেন, যা এই বাহিনীর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনে। পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক নাম।’
পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমার বাবা ও মা (বেগম খালেদা জিয়া), দুজনই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় সঙ্গত কারণেই পিজিআরের কার্যক্রমের সঙ্গে আমি কিশোরবেলা থেকেই পরিচিত।
পিজিআরের কাজকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভিআইপিদের নিরাপত্তা দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে গিয়ে তাদের নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তবে তাদের বিশ্বস্ততা ও সুশৃঙ্খলতা একটি বাহিনী হিসেবে অনন্য। শৃঙ্খলা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পিজিআর চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ায় তিনি বাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেয়া নিজের উপলব্ধির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সময় ব্যাপক জনসমাগমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল। তবে একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অন্যদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা—এই দুয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই নিরাপত্তাকৌশল প্রণয়ন করতে হবে।’
আধুনিক নিরাপত্তাকৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যকে সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অব কমান্ড’ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।