আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৪ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ হাট স্থানীয় অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাটটিতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং নানান সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় দিন দিন ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। হাটের ভেতরের রাস্তাগুলোতে দখলের রামরাজত্বের কারণে হাটুরে এবং শত শত শিক্ষার্থীর পথচলাতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতি এলাকাবাসী প্রায় ২’শ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তায় প্রভাবশালীদের নির্মিত বাড়ীঘর, দোকানপাট ভেঙ্গে দিয়ে উদ্ধার করে দখলমুক্ত করেছেন। পাশাপাশি গত ২৬ জুন স্থানীয় সচেতন মহল হাটের অবৈধ দখল এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার পূর্বে শত শত বছরের পুরোনো মাদারগঞ্জ হাট। এখন সপ্তাহের শনিবার ও বুধবার হাট বসে। হাটে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাজারো মানুষ কেনা-বেচা করতে এখানে আসেন। হাটে ধান, পাট, সবজি, গরু-ছাগল, স্বর্ণালংকার, পান-সুপারির খুচরা ও পাইকারি কেনা-বেচা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই হাটটিতে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং হাটুরেদের নাগরিক সুবিধা না থাকায় ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেইসাথে হাটে পয়ঃনিষ্কাশন, যত্রতত্র মল-মুত্র ত্যাগ, মাদকের ছড়াছড়ি, গবাদিপশু ও ব্রয়লার মুরগী জবাই দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাচল করছে মানুষ। ফলে, জনস্বাস্থ্যও হুমকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা হাটের প্রধান প্রধান রাস্তার পাশের জমি এবং ফুটপাত দখল করে আধাপাকা দোকানঘর নির্মান করায় চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের চৌরাস্তা কলেজ মোড়টিতে প্রচুর লোক সমাগম। লাইন ধরে সিরিয়াল হয়ে চলাচল করতে হয়। কোন রোগীবাহী পরিবহনও অনায়াসে পার হতে পারে না। বিশেষ করে হাটের দিনে এ চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করে ! কারণ, চৌরাস্তার মোড়ের পশ্চিমে মাদারগঞ্জ কলেজ, মাদারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫/৬ টি কেজি স্কুল ও কোচিং সেন্টার রয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতে চৌরাস্তার মোড়েই প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় ব্যয় হয়। অপরদিকে মাদারগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা মোড়েও একই অবস্থা ! সেখানেও অবৈধভাবে নির্মিত দোকান, টেম্পো ষ্ট্যান্ডের কারণেও অন্তহীন নাগরিক সমস্যা। করোনার সময় হাঁটুরেদের জন্য সুপেয় পানির মোটর, ট্যাংকি বসানো হলেও তা আজও ব্যবহার হয়নি। হাটে পর্যাপ্ত পাকা রাস্তা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বর্ষাকালে কাঁদা, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনে বলে জানা গেছে। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও শৌচাগার না থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজার রহমান জানান, “হাজারো মানুষ আসেন, কিন্তু হাটে সুপেয় পানির কোন ব্যবস্থা নেই ।

হাটের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদনকারী হাটের রাস্তা দখলমুক্ত, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন।