মোঃ নাঈম সরকার রিফাত, দাউদকান্দি উপজেলা প্রতিনিধি (কুমিল্লা), ২৯ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ৯ নম্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও চলাচলের অনুপযোগী সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। বহু বছর ধরে ভাঙাচোরা ও কাঁচা এই সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য নিত্যদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটি সংস্কারের দাবিতে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিলেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ত। জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রানিং চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল আহমেদ, রানিং মেম্বার মোঃ সেলিম মিয়া, সাবেক মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম এবং এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় রাস্তা নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই জনপ্রতিনিধিদের সরেজমিন উপস্থিতি এবং কাজের মান তদারকি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উন্নয়ন কার্যক্রম এখন স্থানীয় জনগণের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, নির্বাচনের আগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, তবে বাস্তবে জনগণের কল্যাণে যারা কাজ করেন এবং দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করেন, তারাই মানুষের আস্থা অর্জন করেন। তাই উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

গ্রামবাসী আরও বলেন, একটি ভালো রাস্তা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে। তাই এই রাস্তার নির্মাণকাজ দ্রুত ও নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পন্ন হলে মোহাম্মদপুর গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, উন্নয়নের রাজনীতিই হতে পারে জনগণের প্রকৃত প্রত্যাশা। ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয়। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, এই সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে বহু বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং মোহাম্মদপুর গ্রাম উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।