ঢাকা, ২০ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
তিনি জানিয়েছেন, মামলার এজাহার, অভিযোগপত্রসহ ১৪৪ পৃষ্ঠার নথিপত্র ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে দেশে ফেরানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই বেনজীরকে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে দেশটির সরকার— এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে মোট ৬টি মামলা চলমান। যার একটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে, বাকিগুলো তদন্তাধীন। আগামীকাল এ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চাওয়া হবে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএ) মাধ্যমে ইতোমধ্যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এবারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যে কোনো মন্ত্রণালয়ের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মোহাম্মদপুর অপরাধীদের অভয়ারণ্য। রাতারাতি মোহাম্মদপুরের মতো এলাকাকে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই এলাকা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে।
পুলিশ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনে আমরা কঠোর। কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও জনহিতকর কাজের মূল্যায়নে পুলিশ বাহিনীর জন্য জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভালো কাজের জন্য পুরস্কার এবং অনিয়মের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৩ জুনকে টার্গেট করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক দল নয়, মাফিয়া দল।
উল্লেখ্য, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক করা হয় বেনজীর আহমেদকে। একদিন পর বিষয়টি জাতীয় সংসদকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেদিনই বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহার, অভিযোগপত্রসহ আনুষঙ্গিক নথিপত্র সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, সে দেশের আদালত বিচার-বিশ্লেষণ করে বেনজীরকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও থাকবে তার।
আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশে থাকা তার ৬২১ বিঘা জমি ও খামার, গুলশানের ৯ হাজার ১৯২ বর্গফুটের ৪টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট বর্তমানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কেবল দেশেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে লেক অ্যাভিনিউ ও লেক স্ট্রিটে থাকা তার দুটি বিলাসবহুল বাড়িও ইতোমধ্যে জব্দ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা তার নগদ অর্থ ও তহবিল আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুবাইয়ে তার বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় রয়েছে। রিয়েল এস্টেট থেকে হোটেল ব্যবসা—বিভিন্ন খাতে তার বেনামি বিনিয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
এই সংস্করণে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া, ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি, চলমান মামলা এবং বিদেশে জব্দ হওয়া সম্পদের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদধর্মী কাঠামো বজায় রাখা হয়েছে।