ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন,তামাক থেকে সমাজকে রক্ষায় আরও শক্ত আইন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তামাক একটি মারাত্মক আসক্তি এবং এটি মানুষের শরীরের এমন কোনো অঙ্গ নেই যা আক্রান্ত করে না। প্রচলিত আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।, তাই তামাক বিরোধী আইন আরও শক্ত করা প্রয়োজন।

তরুণ সমাজ তামাক সেবন থেকে এখন অন্যান্য মারাত্মক নেশার দিকে ধাবিত হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা ধূমপান করেন, তারাই বড় সাক্ষী হতে পারেন যে এটি কত খারাপ। তামাক মানুষের ঘুম নষ্ট করে, ক্ষুধা ও ওজন কমিয়ে দেয়। তামাক সেবনের ফলে গালে ও দাঁতে ক্যান্সার হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কেউ কোনো রকম খারাপ কিছু বা অবহেলা করলে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অমানবিক সেবার কারণে আমরা হাসপাতালটি বন্ধ করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা হয়নি।

হামের টিকাদান বিষয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে হামের টিকাদানে স্বাস্থ্য বিভাগ শতভাগ সার্থক ও সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো দেশে আমরা লক্ষ্যের চেয়েও বেশি টার্গেট অর্জন করেছি। ঈদের আগে থেকে প্রতিদিন ডেকে ডেকে এবং মাইকিং করে টিকা দেওয়া হয়েছে। আমাদের ইপিআই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

হামের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাম একেবারে শেষ হয়ে যাবে না। অনেক সময় সাধারণ জ্বর হলেও মানুষ হামে আক্রান্ত হয়। গত এক সপ্তাহে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য। গত ২০ তারিখে যে টিকা দেওয়া হয়েছে, তার অ্যান্টিবডি তৈরি হতেও এক মাস সময় লাগে। সময়মতো ডাক্তার-নার্সরা সেবা না দিলে এবং যন্ত্রপাতি ও টিকা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি অনেক খারাপ হতে পারত।

ই-সিগারেট বন্ধের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে, পরে বিস্তারিত দেখা যাবে।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।