ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের কোনো কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজ সোমবার (১৫ জুন) ভোরে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণ পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজের বরাতে প্রকাশিত তথ্যমতে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সেগুলো হলো—
১. লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
২. ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি।
৩. ৩০ দিনের মধ্যে ইরানি বন্দরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।
৪. ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার।
৫. ইরানের ব্যবস্থাপনায় ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
৬. ইরানের পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা।
৭. ইরানের তেল ও জ্বালানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
৮. ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা।
৯. ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্রের।
খবরে আরও বলা হয়েছে, ইরানের জব্দকৃত তহবিলের একটি অংশ ছাড়, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো বাস্তবায়ন ছাড়া চূড়ান্ত আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী ‘টোলমুক্ত’ভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি কার্যকর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।