ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন’ । ১৯৭৫ সালে দেশের গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করেন জিয়াউর রহমান।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভাটি আয়োজিত হয়।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র বাতিলের কালো আইনের মধ্য দিয়ে মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে দেশের সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল তখনকার সরকার।

সেই তথ্য উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ওই সময় গণমাধ্যম যে অন্ধকার গলিতে ঢুকে পড়েছিল, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে আবার মুক্ত আকাশে বের করা সম্ভব হতো কি না- ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে।

‘বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কাজ করেছেন।’ যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী।

গণমাধ্যম সম্পর্কে শহীদ জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া শুধু গণমাধ্যমকে অবকাঠামোগত বা আর্থিক সুবিধাই দেননি, বরং গণমাধ্যম যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচ্ছন্ন আয়না হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ সমাজ ও রাষ্ট্র জনগণের কাছে সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।’

তথ্যমন্ত্রী শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক নেতৃত্ব এবং সততা ও দেশপ্রেমের কথাও স্মরণ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত দুইটার সময় কারো নির্দেশ ছাড়াই ৩৬ বছর বয়সের বাঙালি মেজর জিয়াউর রহমান একটি প্রতিষ্ঠিত সামরিক শক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এটি সম্ভব হয়েছে কেবল তার সততা, মূল্যবোধ, চেতনা ও দেশপ্রেমের কল্যাণে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘২৫ মার্চের সেই রাতে তিনি (জিয়া) যুদ্ধ ঘোষণা না করলে জাতি দিকনির্দেশনাহীন থাকত। একইভাবে ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা যদি তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে নিয়ে না আসত, তবে দেশে শান্তির ছায়া নেমে আসত না।’

জিয়াউর রহমান একজন মহান রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বলে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উপস্থিতিতে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘(সেদিন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়ার ওপর হওয়া অসম্মানজনক আচরণকে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রনায়কের মতো হজম করেছেন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর ভর করে দেশের সব ভিন্নমতের জন্য সমালোচনার রাস্তা তৈরি করে দিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। ভিন্নমতকে সম্মান এবং বহুমাত্রিক চিন্তার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের গতি নির্ধারণ করাই ছিল তার রাষ্ট্রনায়কোচিত বৈশিষ্ট্য।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুইয়া, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম মহসিন ।

আলোচনা সভার আগে ক্লাব মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন সময়ের ছবি নিয়ে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি।