সিলেট, ১৩ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী মারা গেছেন। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও দলীয় সূত্র জানায়, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে দুই দিন তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার সাবেক আমির এবং দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর শ্বশুর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরী ও কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ি গ্রামে একাধিক জানাজার নামাজ শেষে তাকে গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হবে।
রাজনীতি, শিক্ষা ও ব্যবসা—তিন ক্ষেত্রেই ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। সিলেটে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। নগরের আলহামরা শপিং সিটির অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
আশির দশকে তার উদ্যোগে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয় জামেয়া ইসলামিয়া মিরাবাজার উচ্চবিদ্যালয়। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। এ ছাড়া দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি, জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা (পাঠানটুলা) এবং আল আমিন জামেয়া ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন। সামাজিক সংগঠন আনজুমানে খেদমতে কুরআন গঠনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল এবং সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রসংঘের সিলেট জেলা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।