আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৮ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার একজন বিখ্যাত কবির স্মৃতি স্মরণে এলাকার কতিপয় উদ্যোক্তার কঠোর পরিশ্রমে ১৯৮৯ সালে গড়ে ওঠে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। সে সময়ে সর্বসম্মতি ক্রমে নামকরণ করা হয় কবি হেয়াত মামুদ শিশু নিকেতন। পীরগঞ্জের কিছু সমাজসেবকের উদ্যোগে সৃস্টি ওই বিদ্যাপীঠে স্থানীয়ভাবে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সংগ্রহের কাজে স্বেচ্ছাসেবী পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। প্রায় ২২ শতাংশ জুড়ে সরকারি স্থানে গড়ে তোলা হয় বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুলটি। শুরুতে বিদ্যাপীঠের পৃষ্ঠপোষকতা স্থানীয় প্রভাবশালীদের হাতে থাকলেও পরবর্তীতে ঈর্ষণীয় সুনাম অর্জন করলে তা উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সস্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
পীরগঞ্জ পৌরসভার প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যাপীঠটি শুরুতেই সফলতার মুখ দেখেনি সত্য,তবে কালের পরিক্রমায় দশ বছর পর একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে দূর্বার গতি পায় ওই বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠাকালীণ অধ্যক্ষ জনাব মো. আব্দুল মোত্তালিব মন্ডল ও মো. আব্দুল কাফী ৩১/১২/১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ০১/০১/১৯৯৯ থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন জনাব মো. মাহবুবর রহমান মন্ডল। তিনি ধাপেরহাট মণিকৃষ্ণ সেন ডিগ্রী কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক।
আজ ০৮/০৬/২০২৬ খিঃ তারিখে এ প্রতিবেদক ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে নানা সমস্যা ও সফলতা নিয়ে আলাপচারিতায় জানতে পারেন, উপজেলা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ” উপজেলা প্রশাসন কবি হেয়াত মামুদ স্কুল “। পদাধিকার বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। অধ্যক্ষ সদস্য সচিব, সহ সভাপতি- সহকারি কমিশনার(ভূমি), উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সদস্য পদাদিকার বলে এবং শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধি তিনজন সদস্য মিলে ৯ সদস্যের গভর্ণিং বডির নেতৃত্বে বিদ্যালয় পরিচালিত হলেও সরকারি কোন অনুদান পায়না স্কুলটি।
জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মাহবুবর রহমান মন্ডলের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল বিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল কারণ। পীরগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন এটি। বিদ্যালয়ের মোট ৭টি শ্রেণীতে মোট ছাত্র-ছাত্রী ৫৮৯ জন।দুই শিফটে ক্লাশ শিক্ষক আছেন ২২ জন। তবে, দুঃখজনক হলেও সত্যি- সরকারি কোন অনুদান ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয় শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থের দ্বারা,অথচ প্রতিমাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি হিসেবে বিশ হাজার টাকা সম্মানী গ্রহণ করেন,যা সম্পূর্ণ অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে।
বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন কবি হেয়াত মামুদ স্কুলকে ঘিরে অনেক আলোচনা- সমালোচনার ঝড় উঠেছে। উপজেলায় অবস্থিত সকল কিন্ডার গার্টেনগুলি তাঁদের নিজস্ব স্থানে বিদ্যালয় পরিচালনা করেন, অথচ একমাত্র কবি হেয়াত মামুদ স্কুলটি সরকারি ২২ শতাংশ জমি দখল করে কিভাবে একটি বেসরকারি বিদ্যালয় পরিচালনা করে? এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর।অনেকেই মনে করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ভোগ দখলের সুবিধা করে দিয়েছেন।