ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৮ মে ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে তিনিই হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেন।

নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। বৈঠক শেষে শাহ বলেন, পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনে আটটি প্রস্তাব জমা পড়লেও সবগুলোতেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় তাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত এখন বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। অমিত শাহ বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে তার আদর্শের অনুসারী সরকার গঠিত হয়েছে।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রী পদে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কারণ, তিনি টানা দুইবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনী লড়াইয়ে পরাজিত করেছেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোর পর এবার ভবানীপুরেও জয় পেয়েছেন তিনি। ভবানীপুরে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে মমতাকে পরাজিত করেন শুভেন্দু।

এছাড়া নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রামেও জয় ধরে রেখেছেন তিনি। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে হারিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রীর এমন সরাসরি লড়াই বিরল। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারিয়ে বিরোধী দলনেতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া ভারতীয় রাজনীতিতেও ব্যতিক্রমী ঘটনা।

তবে বিজেপি নেতৃত্ব শেষ মুহূর্তে অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে— এমন জল্পনাও ছিল। কারণ অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে চমক দিয়ে অপ্রত্যাশিত মুখকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে বিজেপি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সাফল্য উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলেই মনে করছেন দলীয় নেতারা।

গত ৪ মে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। বাকি ছয়টি আসন গেছে বাম, কংগ্রেস ও অন্য দলগুলোর ঝুলিতে। একটি আসনে পুনর্নির্বাচন বাকি রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, ভোট কারচুপির মাধ্যমে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। তিনি আইনি লড়াইয়েরও ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গে এক ধরনের সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিজেপির সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় সেই জল্পনারও অবসান হলো।

এখন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছর পশ্চিমবঙ্গ পরিচালিত হবে বলে নিশ্চিত করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।